Home / কবুতর পালন পদ্ধতি / কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারনা- ২য় পর্ব
কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারনা- ২য় পর্ব
কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারনা- ২য় পর্ব

কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারনা- ২য় পর্ব

কবুতর পালনের প্রাথমিক ধারণায় আজকের পর্বে অর্থাৎ ২য় পর্বে আমরা কবুতর পালন পদ্ধতি, কবুতরকে বাড়ি চেনানো এবং কবুতরকে কি খাবার দিবেন সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। ১ম পর্ব যারা পড়তে পারেননি তারা ১ম পর্ব পড়ে নিতে পারেন। এই পোস্টের শেষ অংশে ১ম পর্বের লিংক দিয়ে রেখেছি। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন আমরা আলোচনা শুরু করি-

কবুতর পালন পদ্ধতিঃ
আপনি যেখান থেকেই কবুতর আনেন না কেন, কবুতর বাড়িতে আনার পর আপনার প্রথম কাজ হলো কবুতরকে পরিষ্কার করা। এর জন্য আপনি শুধু পানি দিয়েই স্প্রে করে গোসল করিয়ে দিতে পারেন। যদি পারেন তাহলে পানির সাথে পরিমাণমতো জীবাণুনাশক যেমন- ডেটল বা এ জাতীয় কিছু মেশাতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি টিমসেন অথবা পটাশ দিয়ে কবুতরকে গোসল করান। টিমসেন দিয়ে কবুতরকে গোসল করানোর নিয়ম হলো-প্রতি ২ লিটার পানিতে ১ গ্রাম টিমসেন মিশিয়ে কবুতরকে গোসল করানো। আর যদি পটাশ দিয়ে গোসল করান তবে প্রতি লিটারে ২ গ্রাম পটাশ মিশিয়ে কবুতরকে গোসল করাবেন। কবুতরকে গোসল করানোর সময় কবুতরের চোখে বা কানে যেন পানি না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টিমসেন দিয়ে গোসল করানোর সময় একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। টিমসেন মেশানো পানি যেন কবুতর না খায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
এভাবে গোসল করানোর পর কবুতরগুলোকে ২-৩ দিন অন্যান্য কবুতর থেকে আলাদা রেখে দিবেন। এতে কবুতরের শরীরে থাকা জীবাণু মরে যাবে। এরপর আপনি আপনার কবুতরগুলোকে চপনার লফ্টে তুলবেন। যদি আপনার লফটে আগে থেকেই কোনো কবুতর না থাকে বা এটাই শুরু হয় তাবে সরাসরি লফ্টে রাখবেন। কবুতর লফটে নেওয়ার আগে আপনার পুরো লফ্ট আগে থেকেই স্প্রে করে প্রস্তুত করে রেখে দিবেন। অনেকেই হয়তো লফ্ট বিষয়টা বুঝতে পারতেছেন না। আসলে লফট বলতে কবুতরের ঘরকে বুঝায়।




কবুতরকে বাড়ি চেনানোঃ
কবুতরকে বাড়ি চেনানো অনেকের কাছেই জটিল মনে হতে পারে। আসলে এটা কোন জটিল বিষয় না। পাখিদের মধ্যে কবুতর খুব সহজে নিজের ঘর চিনে নিতে পারে। আপনি যে খোপে কবুতর রাখবেন সে খোপে কবুতরকে ১০-১২ দিন আটকিয়ে রাখুন। এমনভাবে আটকিয়ে রাখুন যাতে কবুতরগুলো খোপের ভেতর থেকেও সামনের সবকিছু দেখতে পারে। খোপের সামনে অস্থায়ীভাবে নেট লাগিয়ে দিয়ে এটা করতে পারেন। অবশ্যই আপনাকে নেটের ভেতর খাবার ও পানি নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে। ১০-১২ দিন এভাবে চলার পর নেট খুলে দিবেন। ইনশাআল্লাহ কবুতর এতে ঘর চিনে যাবে। এছাড়াও কবুতর ছেড়ে দিয়েও বাড়ি চেনানো যায়। এতে কবুতরের পাখা টেপ/কস্টিপ দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। এমনভাবে বেঁধে দিতে হবে যেন কবুতর উড়তে না পারে। তবে এভাবে ছেড়ে দিলে কবুতরকে খুব দেখেশোনে রাখতে হবে। কারন, এরা তখন উড়তে পারে না বলে বিড়াল, কুকুর বা বাড়িতে থাকা মোরগ-মুরগি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। আপনাদের একটা কথা বলে রাকি সেটা হলে- কবুতর পালন করতে গেলে আপনার মনটাকে অবশ্যই বড় করতে হবে। ২-১ টা কবুতর হারিয়ে গেলে বা মারা গেলে আপনাকে সহজ মনে মেনে নিতে হবে।

কবুতরের খাবারঃ
খাবার হিসেবে কবুতরকে প্রচলিত খাবারগুলোই খাওয়াবেন। দেশি কবুতর ধান খুব পছন্দ করে। আপনি ধান, চালের ক্ষুদ একত্র করে খাওয়াবেন। মাঝেমাঝে গম ও সরিষা খাওয়াতে পারেন। বাজারে কবুতরের জন্য মিক্স খাবার কিনতে পাওয়া যায় সেগুলেও খাওয়াতে পারেন। তবে আপনি কবুতরকে যাই খাওয়ান না কেন খাবার অবশ্যই শুকনো ও পরিষ্কার হতে হবে। খাবারগুলো রোদে শুকিয়ে রাখবেন এবং খাবার রাখার জন্য আলাদা পত্র রাখবেন।
বাজারে মুরগির জন্য যে পাত্র পাওয়া যায় সেটাই কবুতরের জন্য ব্যবহারযোগ্য। পানির জন্য আলাদা পাত্র পাওয়া যায় সেটাও কিনে নিবেন।
পানিতে যেন কবুতরের বিষ্ঠা না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখবেন এবং কবুতরকে সবসময় পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন খাবার, পানি দিবেন। কেননা, এ থেকেই কবুতরের রোগজীবাণু বেশি হয়ে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানির সাথে বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল খাওয়াতে পারেন।
সপ্তাহে অন্তত ২ বার কবুতরকে গোসল করানোর জন্য পানি দিতে হবে।
=>কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারণা-১ম পর্ব (দেখতে এখানে ক্লিক করুন)

 

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারণা- ৩য় পর্ব

কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারণা- ৩য় পর্ব

কবুতর পালনের প্রাথমিক ধারণায় আজকে ৩য় পর্ব। ১ম পর্বে আলোচনা করেছিলাম কবুতরের বাসস্থান ও কবুতর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *