Home / কবুতরের রোগ ও চিকিৎসা / কবুতরের টাল বা ঘাড়বাঁকা রোগের সঠিক চিকিৎসা
কবুতরের টাল বা ঘারবাঁকা রোগের সঠিক চিকিৎসা
কবুতরের টাল বা ঘারবাঁকা রোগের সঠিক চিকিৎসা

কবুতরের টাল বা ঘাড়বাঁকা রোগের সঠিক চিকিৎসা

কবুতরের টাল বা ঘাড়বাঁকা রোগ প্রতিরোধে করণীয়, এ রোগের সঠিক চিকিৎসা কি? কি কি কারনে কবুতরের টাল বা ঘাড় বাকা রোগ হয়? এ রোগের লক্ষণ কি কি? এসব সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানা নেই। আমাদের দেশে শখের বসে কিংবা লাভের আশায় অনেকেই কবুতর পালন করে থাকে। কবুতর পালন করতে গিয়ে অনেকেই আবার বিভিন্ন প্রকার বিরম্বনার শিকার হয়ে থাকেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কবুতরের রোগ। কবুতর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকার রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। এসব রোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কবুতরের টাল বা ঘাড়বাঁকা রোগ।




প্রথমেই আলোচনা করবো কবুতরের টাল বা ঘাড়বাঁকা রোগ হওয়ার কারন সম্পর্কে-
বিভিন্ন কারণে কবুতরের টাল রোগ হয়ে থাকে। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভিটামিন বি এর অভাব। ভিটামিন বি এর অভাবে কবুতর টাল রোগে আক্রান্ত বেশি হয়। এছাড়াও আরও অন্যান্য কারনে কবুতরের টাল রোগ হয়ে থাকে। যেমন-




১) খাবার পানির পাত্রে কবুতর পায়খানা করলে সেই পানি যথা সময়ে না সরিয়ে নিলে সেই পানি কবুতর পান করলে এই রোগ ছড়াবে।

২) আক্রান্ত কবুতরের সংস্পর্শে, এই রোগ ১০-১৫ দিন পর্যন্ত জীবানু ছড়াতে পারে।

৩) নতুন পায়রা খামারে প্রবর্তনের মাধ্যমে এ রোগ হতে পারে।

৪) রোগে আক্রান্ত কবুতর খামারে প্রবেশ করালে।

৫) সংক্রমিত মলের মাধ্যমে কবুতর সংক্রমিত হতে পারে।

৬) বাইরের পাখি খামারে অবাধ প্রবেশ বা খামারের কবুতর বাইরের কবুতরের সংস্পর্শে আসলে।
এসব কারণেই মূলত কবুতর টাল রোগে আক্রান্ত হয়।




কবুতরের টাল রোগের লক্ষণ কি কি সেগুলো এখন বলে দিচ্ছি-

১) বমি ভাব বা বমি করবে। খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে খাঁচার এককোণে চুপ করে লোম ফুলিয়ে বা এক পা উচু করে অথবা গায়ে মুখ গুঁজে বসে থাকবে।

২) ঘাড় বেকে যাওয়া বা মুচড়ান বা ঘাড় উল্টে যাওয়া বা মাথা ঘুরান বা মাথা কাপতে থাকবে।

৩) অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পাখি কিছুটা শিথিল হয়ে যাবে ও দ্রুত ওজন কমে যাবে ও বুকের হাড্ডি বের হয়ে যাবে।

৪) উল্টে পড়ে যাবে বা খাবারের সঠিক জায়গায় ঠোকর দিতে প্রবে না । বাকা ভাবে উড়া বা উড়তে গিয়ে পড়ে যাবে, একই জায়গায় ঘুরতে থাকবে।

৫) গাড় সবুজ পায়খানা বা সবুজ ও সাদা পায়খানা বা পাতলা সবুজ বা পাতলা সবুজ ও সাদা পায়খানা ।




কবুতরের টাল রোগ প্রতিরোধে যা করতে হবে সেগুলো হলো-

১) রোগের শুরুতেই আক্রান্ত কবুতর কে আলাদা করতে হবে।

২) দিনের বেশীর ভাগ সময় রোদে রাখতে হবে।
কবুতর পানির পাত্রে পায়খানা করলে দ্রুত পানি বদলাতে হবে।

৩) নিয়মিত কবুতরকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স প্রয়োগ করতে হবে। আর মনে রাখবেন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স কবুতরের শরীরে জমা থাকে না। এটি ৩০%-৪০% শরীর শোষণ করে বাকিটুকু পায়খানার সাথে বের হয়ে যায়।

৪) টাল কবুতর খাবার ছিটিয়ে দিলে খাবারে ঠোকর দিলেও খাবারে ঠোকর পড়বে না খাবারের সাইডে ঠোকর পড়বে তাই খাবার ১ জায়গায় বেশি করে দিতে হবে।

৫) দিনে ২-৩ বার ঘার ফুটিয়ে দিতে হবে অর্থাৎ হালকা টেনে দিতে হবে এতে পেশি ও স্নায়ু স্বাভাবিক হতে থাকবে।




৬) নিয়মিত সালমনেলা কোর্স করাতে হবে সব থেকে ভাল হয় Hamico ph কোর্স করানো। Hamico ph ১ মিলি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতিমাসের শুরুতে ১-৫ দিন খাওয়াতে হবে।

৭) পানি না খেতে পারলে সিরিঞ্জ দিয়ে তুলে খাওয়াতে হবে।

৮) কবুতরের ঘাড় যেদিকে বাঁকা হয়েছে তার বিপরীত দিকে কবুতরের মুখ ৫-৭ সেকেন্ড হাত দিয়ে ধরে রাখতে হবে। দিনে ৩-৪ বার এই প্রক্রিয়া চালাতে হবে

৯) ভিটামিন বি খাওয়াতে হবে। মনে রাখবেন অসুস্থ কবুতর কে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ছাড়া অন্যান্য ভিটামিন দেওয়া উচিত নয়।




এবার আপনাদের বলে দিবো কবুতরের টাল রোগের সঠিক চিকিৎসা কি? এ বিষয়টি-
কবুতরের টাল রোগ হলে কবুতরকে দুইবেলা ভিটামিন বি খাওয়াতে হবে। ভিটামিন বি হিসেবে কবুতরকে মানুষের ঔষধ AB1 খাওয়াতে পারেন। এ বি ১ কবুতরকে টানা ১০ দিন খাওয়াতে হবে। প্রতিদিন সকালে কবুতরকে ৩-৪ টি গোলমরিচ খাওয়াবেন এরপর ২০-৩০ মিনিট কবুতরকে রোদে রাখতে হবে। এরপর অসুস্থ কবুতরকে নিউরো বি ইঞ্জেকশন দিতে হবে। ইনসুলিনের সিরিঞ্জ দিয়ে কবুতরের বুকের মাংসে প্রয়োগ করতে হবে। এ ইনজেকশন কবুতরকে টানা ৫ দিন খুব সকালে দিতে হবে।
এরপর আশা করা যায় কবুতর টাল রোগ থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবে।

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা

কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা

আজকে আমি কবুতরের যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করব সেটা হল কবুতরের পক্স, বসন্ত বা মশার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *