Home / কবুতরের রোগ ও চিকিৎসা / কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা
কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা
কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা

কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা

আজকে আমি কবুতরের যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করব সেটা হল কবুতরের পক্স, বসন্ত বা মশার কামড় বা গুটি অথবা গোটা কেন, কি জন্য হয়? এবং এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ প্রতিকার এবং প্রতিরোধের উপায় এবং এই রোগটি যদি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি এসব বিষয়গুলো নিয়ে। চলুন শুরু করা যাক –



মূলত মশার কামড়ের জন্যই এই রোগটি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি হল মশারি টানিয়ে দেওয়া ।মশা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে আমরা কবুতরকে এ রোগের হাত থেকে সম্পূর্ণ বাঁচাতে পারি। শরীরে বাঁ পায়ে গোটা গুলো হলে কবুতরের বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে গোটাগুলো আপনা থেকেই ঝরে যায়। তবে সমস্যার কারণ হয় তখনই যখন গোটাগুলো মলদ্বারের আশেপাশে, চোখের পাশে বা মুখের আশেপাশে হয়। তখন এক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। চলুন জেনে নেই কবুতরের এ রোগ হলে কি চিকিৎসা নিতে হবে।



কবুতরের পক্স, বসন্ত বা মশার কামড় বা গুটির রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-

১। গোটায় লাগানোর ঔষধ
২। খাবার ওষুধ

গোটায় লাগানোর ওষুধ হচ্ছে-

১। ভায়োডিন
২। ব্যাকটোসিন
৩। ক্যালামাইন লোশন
৪। ফোনা



ভায়োডিন ওষুধটি কোন ক্ষত, গোটা বা ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে। ব্যাকটোসিন এবং ফোনা এই মলম দুটি শরীরে সৃষ্ট যেকোনো গোটা ক্ষত বা পক্স জাতীয় রোগ দূর করতে সাহায্য করে।

ক্যালামাইন লোশন ঘামাচি, পক্স এই জাতীয় রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। মূল্য 35 থেকে 40 টাকা।

ব্যবহারবিধি গুলো হবে এইরকম ভাবে-



ভায়োডিন লাগাবেন দিনে তিনবার ,ক্যালামাইন লোশন লাগাবেন দিনে দুই থেকে তিনবার এবং ব্যাকটোসিন এবং ফোনা লাগাবেন দিনে দুই থেকে তিনবার। (টানা 7 দিন এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে)

খাবার ওষুধ গুলো হচ্ছে-

১। রিবোমিন / রিবোসন
2। ফ্লুক্লক্স (fluclox) ৫০০ এম জি



রিবোসন জাতীয় ওষুধটি দিবেন দিনে দুইবার , সকালে এবং বিকেলে অর্ধেক করে।ফ্লুক্লক্স(fluclox) ওষুধটি দিবেন চার ভাগ করে, দিনে দুইবার সকালে এবং বিকেলে।
তবে হ্যাঁ এক্ষেত্রে সবগুলো ওষুধ বা মলম একসাথে ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই।যেকোনো একটি মলম একটি ওষুধ খাওয়ালে হবে। ওষুধের পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই কবুতরকে সুষম এবং ভালো খাবার দিতে হবে এবং কবুতর যদি না খেতে পারে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই রাইস স্যালাইন প্রয়োগ করতে হবে বা কবুতরটিকে হাতে ধরে খাইতে হবে।



এখন প্রশ্ন হতে পারে এতগুলি ওষুধ সব একই কবুতরের জন্য দরকার নাকি বাকি কবুতরকে দিতে হবে?

আমার উত্তর হলো, না। যেকোনো একটি পন্থা আপনি অবলম্বন করুন। এক্ষেত্রে হতে পারে আপনি ভায়োডিনের সাথে রীবসন ওষুধটি ব্যবহার করলেন আবার ক্যালামাইন লোশন এর সাথে ফ্লক্লক্স ওষুধ টি ব্যবহার করলেন।
আমার দেয়া চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে আশা করি আপনারা সবাই উপকৃত হবেন। ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আপনার কবুতরের গোটা বা পক্স হলে অবশ্যই এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে সেরে যাবে।



তবে হ্যাঁ এক্ষেত্রে একটু খেয়াল রাখবেন কবুতরের গোটা গুলো যেন কোনোভাবেই খোটা না হয়। এক্ষেত্রে কবুতরের অনেক সময় রক্ত বেরিয়ে আসে এবং ওই জায়গাটিতে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং অনেক সময় ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে ।আবার অনেক সময় দেখা যায় ঠোঁটে কবুতরের গোটা হলে খুবই খারাপ ভাবে গোটাগুলো খোটার কারণে ঠোট টি অনেক সময় পড়ে যায়।আপনারা কোন অবস্থাতেই কবুতরের গোটা গুলো খুটতে যাবেন না। ৭ থেকে ১৫ দিন পর আপনারা নিজেরাই দেখতে পাবেন গোটাগুলো নিজ থেকে উঠে যাচ্ছে ।যখন গোটা গুলো উঠে যাবে তখন দেখতে পারবেন সেখানে চামড়াটা সুস্থ হয়ে গেছে এবং আপনার কবুতর সাথে সাথে সুস্থ হয়ে উঠছে।



কবুতরের পক্স এর চিকিৎসা একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আপনাকে ধৈর্য ধরে এই চিকিৎসা করতে হবে।
আশা করি আপনারা সবাই আমার চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে উপকৃত হবেন।

সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং নিজ কবুতরের খেয়াল রাখবেন।

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের পায়খানা/মল দেখে রোগ নির্ণয় করবেন যেভাবে

কবুতরের পায়খানা/মল দেখে রোগ নির্ণয় করবেন যেভাবে

কবুতরের শারীরিক অবস্থা দেখে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব না ৷ কবুতরের রোগ নির্ণয় করতে অবশ্যই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *