Home / কবুতর পালন পদ্ধতি / কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারণা- ৩য় পর্ব
কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারণা- ৩য় পর্ব
কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারণা- ৩য় পর্ব

কবুতর পালনে প্রাথমিক ধারণা- ৩য় পর্ব

কবুতর পালনের প্রাথমিক ধারণায় আজকে ৩য় পর্ব। ১ম পর্বে আলোচনা করেছিলাম কবুতরের বাসস্থান ও কবুতর নির্বাচন নিয়ে এবং ২য় পর্বে আলোচনা করেছিলাম কবুতর পালন পদ্ধতি, কবুতরকে বাড়ি চেনানো এবং কবুতরকে কি খাবার দিবেন সে বিষয় নিয়ে।
যারা ১ম ও ২য় পর্ব পড়তে পাড়েননি তারা সেগুলো পড়ে নিতে পারেন। এই পোস্টের শেষের অংশে ১ম ও ২য় পর্বের লিংক দিয়ে দিবো।
আজকে ৩য় পর্বে আলোচনা করবো- কবুতর পরিচিতি ও দেশি বা গোলা কবুতরের বৈশিষ্ট্য নিয়ে। তাহলে চলুন শুরু করি-

কবুতর পরিচিতিঃ বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতের কবুতর পাওয়া যায়। যেমন- দেশি, গিরিবাজ, ফেন্সি প্রভৃতি। দেশি কবুতর আমরা সবাই চিনি কিন্তু গিরিবাজ ও ফেন্সি কবুতর আমরা কমই চিনি। গিরিবাজ কবুতরের মধ্যে সবুজ গলা, জিরা গলা, চিলা, বাঘা, প্রভৃতি রয়েছে। গিরিবাজ কবুতর দিয়েই কবুতরের রেস প্রতিযোগীতা করানো হয়। এখন আসি ফেন্সি জাতের কবুতরেঃ যারা সৌখিন প্রকৃতির মানুষ তারাই মূলত ফেন্সি কবুতর পোষে থাকে। আবার অনেকে বানিজ্যিকভাবেও পালন করে থাকে। ফেন্সি কবুতরের মধ্যে বোম্বাই, বিউটি হোমা, রেঞ্জ, সিরাজি, লক্ষা প্রভৃতি রয়েছে।

একটা কথা আপনাদের বলে রাখি আর তাহলো- প্রত্যেক জাতের কবুতরের নামকরণ করা হয় কবুতরের বৈশিষ্ট্য ও কালার দেখে।
কবুতরের মধ্যে দেশি ও গিরিবাজ কবুতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- দেশি কবুতর হলো দেশি মুরগী, গিরিবাজ কবুতর হলো লেয়ার মুরগী আর ফেন্সি কবুতর হলো ব্রয়লার মুরগী।




দেশি বা গোলা কবুতরের বৈশিষ্ট্যঃ
১) দেশি কবুতর আকারে মাঝারী ধরনের হয় অর্থাৎ বেশি ছোটও না আবার বেশি বড়ও না।
২) এদের ঠোট একটু লম্বা ও অক্ষিগোলক কালো বা হলুদ রঙের হয়।
৩) দেশি কবুতরের পায়ে সাধারণত পালক থাকে না।৷ তবে কিছু কিছু কবুতরের পায়ে পালক থাকতে পারে এবং মাথায় খোপাও থাকতে পারে।
৪) এরা বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। তবে পুরোপুরি কালো দেশি কবুতর দেখা যায় না।
৫) দেশি কবুতর প্রচুর পরিশ্রমী হয়। এদের যত্ন না নিলেও এরা ভালো থাকে এবং দেশি কবুতর নিজেরা নিজেদের খাবার সংগ্রহ করতে পারে।
৬) এদের বাচ্চা ফোটানোর হার খুবই ভালো তাই বিদেশি কবুতরের বাচ্চা এদের দ্বারা ফোটানো হয়।
৭ কবুতরের বাচ্চা হিসেবে দেশি কবুতরের বাচ্চাই বেশি খাওয়া হয়।
৮) বর্তমানে বাজারে এদের দাম প্রতি জোড়া এডাল্ট কবুতর ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত এবং বাচ্চা প্রতি পিচ ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত। এখানে একটা কথা আপনাদের বলে রাখি, এলাকাভেদে কবুতরের দাম কম বেশি হতে পারে।

আজকে এ পর্যন্তই। ৪র্থ পর্বে আলোচনা করবো কবুতরের ডিম নিয়ে। যেমন ধরুন- কবুতর কতদিনে ডিম দেয়?, ডিমে হাত দিলে ডিম নষ্ট হয় কিনা?, ডিম ফ্রিজে রাকা যাবে কিনা?, কতদিনে কবুতরের বাচ্চা ফোটে? আরও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিসয় নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করি সে পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন। ধন্যবাদ…

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

নতুন ও পুরাতন কবুতর পালকদের এই ১৪ টি বিষয় মানতেই হবে

নতুন ও পুরাতন কবুতর পালকদের এই ১৪ টি বিষয় মানতেই হবে

আপনারা যারা কবুতর পালন করেন অথবা কবুতর পালন করা শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য আজকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *