Home / কবুতরের রোগ ও চিকিৎসা / কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার হওয়ার কারন ও চিকিৎসা (০২)
কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার হওয়ার কারন ও চিকিৎসা (০২)
কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার হওয়ার কারন ও চিকিৎসা (০২)

কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার হওয়ার কারন ও চিকিৎসা (০২)

কবুতরের চিকিৎসায় প্রথমেই একটা জিনিস আমাদের খুব দরকার আর তহলো- কবুতরের প্রতি অনেক ভালোবাসা আর ধৈর্য। একটা কথা মনে রাখবেন, আমরা যারা কবুতর পালি তাদের অবশ্যই এর কোন ক্রুটি হলে, অযত্ন হলে, আমাদের অবহেলায় ওরা কষ্ট পেলে মহান আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন আর প্রাণীদের প্রতি ভালোবসা বাড়িয়ে দিন।
কবুতরের মুখে ঘা কবুতের খুব কমন একটা রোগ। বয়স্ক কবুতরের ক্ষেত্রে কবুতরের খাবার পানি, আক্রান্ত কবুতরের মুখ থেকে পড়া খাবার এবং বচ্চাদের ক্ষেত্রে খাওয়াবার সময় বাবা-মা থেকে বাচ্চাদের ভিতর সংক্রমিত হয়। যদি কবুতরের মুখের ঘা এর চিকিৎসা না করা হয় তাহলে কবুতর মারা যেতে পারে। তাই এর চিকিৎসায় অবহেলা করা যাবে না।

কবুতরের মুখে ঘা হয়েছে কিনা সেটি আপনি কি করে বুঝবেন?
যখন কবুতরের মুখ হা করিয়ে দেখবেন তখন হাল্কা হলুদ রঙের ঘা এর মতো দেখতে পাবেন। কবুতরের মুখে ঘা হলে কবুতরের শ্বাসকষ্ট হয়, খাবার খেতে পারে না। এতে কবুতরের ওজন কমতে শুরু করে অর্থাৎ কবুতর শুকিয়ে যায়। কবুতর খাবার খেতে না পারায় কবুতর শুধু পানি খায়। এতে কবুতরের পাতলা পায়খানা ও হজমে সমস্যা হয়। কবুতরের মুখে যদি খা বেশি হয় তাহলে কবুতরের মুখ থেকে রক্তও বের হতে পারে।

কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার কেনো হয়?
কবুতরের মুখে ঘা হওয়ার মূল কারণ হলে কবুতরকে বেশিবেশি ধান খাওয়ানো এবং কবুতরের ভিটামিন বি এর অভাব। কবুতরকে যদি আপনি ধান খাওয়াতেই চান তাহলে তাহলে ধান ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এমনভাবে ধুতে হবে যাতে ধানের মধ্যে থাকা ধারালো কেণাগুলো ভেঙে যায়। ধানের এই ধারালো কোণার ফলে কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার হয়ে থাকে। এছাড়াও অপরিষ্কার খাবার ও পানি খাওয়ালেও কবুতরের কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাকঙ্কার হয়।




কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার এর চিকিৎসা কি?
চিকিৎসা-১ঃ কবুতরের মুখে যদি ঘা হয় তাহলে প্রথমেই আক্রান্ত কবুতরকে অন্যান্য কবুতর থেকে আলাদা করতে হবে। এরপর পরিষ্কার কাঠি দিয়ে কবুতরের মখের ঘা এর উপরের আবরণ তুলে দিতে হবে অর্থাৎ পরিষ্কার করে দিতে হবে। এমনভাবে পরিষ্কার করতে হবে যেন রক্ত না বের হয়।
তারপর কবুতরকে মানুষের ঔষধ রিবোসন ট্যাবলেট ১ টি করে প্রতিদিন ২ বেলা খাওয়াতে হবে। যদি ২-৩ দিন খাওয়ালে ঘা ভালো হয় তাহলে ঔষধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিতে হবে। আর যদি ২-৩ দিনেও ভালো না হয় তাহলে ৮-১০ দিন পর্যন্ত খাওয়াতে হবে।

চিকিৎসা-২ঃ কবুতরকে রিবোসন খাওয়ানোর পরও যদি কবুতরের মুখের ঘা ভালো না হয় তাহলে মানুষের ঔষধ ফ্লাজিল খাওয়াতে হবে। এটা খাওয়ানোর নিয়ম হলো- একটি ট্যাবলেট ৬ ভাগ করে দিনে ২ বেলা খাওয়াবেন। প্রতিটি ঔষধ কবুতরকে ভরা পেটে খাওয়াতে হবে।
যদি কবুতর খাবার খেতে না পারে তাহলে কবুতরকে রাইস স্যালাইন খাওয়াবেন। রাইস স্যালাইন মানুষের ফার্মেসীতে পাবেন। রাইস স্যালাইন খাওয়ানোর নিয়ম হলো- ১০ সিসি করে ২ সিরিঞ্জ সকালে এবং ২ সিরিঞ্জ বিকেলে খাওয়াবেন। বাকি সময় একটু একটু করে একটু পরপর হ্যান্ড ফিডিং করাবেন।
আজ এ পর্যন্তই। সবাই শখের কবুতর নিয়ে ভালো থাকুন। আল্লাহ হাফেজ…

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা

কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা

আজকে আমি কবুতরের যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করব সেটা হল কবুতরের পক্স, বসন্ত বা মশার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *