Home / কবুতরের যত্ন / কবুতরকে গোসল করানোর ৯ টি পদ্ধতি
কবুতরকে গোসল করানোর ৯ টি পদ্ধতি
কবুতরকে গোসল করানোর ৯ টি পদ্ধতি

কবুতরকে গোসল করানোর ৯ টি পদ্ধতি

কবুতরকে গোসল করানোর ৯ টি পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো-

১) গোসলের লবন (Bath Salt):
কবুতরের গোসল দিবার অনেকগুলো পদ্ধতি গুলোর অন্যতম হল গোসলের লবন বা Bath Salt. এটি একদিকে যেমন কবুতরের শরীরের পোকা নিধন করে অন্যদিকে তেমনই স্ট্রেস,খুসকি সহ পড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। ১ টেবিল চামচ ১০-১৫ লিটার সাধারণ পানিতে মিক্স করে ৫ মিনিট সময় হাতে ধরে ভাল করে গলা পর্যন্ত আঙ্গুল দিয়ে বিলি কেটে দিতে হবে যাতে পড়ের কোনায় বা গোড়াতে পানি পৌছাতে পারে ও শরীর বা পর ভিজে। এই ভাবে ৭-১০ টি কবুতর কে গোসল করান যেতে পারে। শীতের সময় সপ্তাহে ১ দিন ও গরমের সময় ২-৩ দিন। রেসের সময় সপ্তাহে ২ দিন মল্টিং এর সময় সপ্তাহে ২ দিন। যারা ছেড়ে কবুতর পালেন বা যে সব কবুতর নিজে গোসল করে তাদের কে মাঝে মাঝে নিজেদের গোসলের সুযোগ করে দিলে ভাল হয়। রেসার ও হাই-ফ্লায়ার কবুতরের জন্য প্রতিযোগিতার আগে অতি অত্যাবশ্যকীয় বা জরুরী ভাবে করনীয়।

২) নীম পাতা (Neem Leaf):
৫০-৬০ টি নীম পাতা ও কচি নীমের ডাল ৫-৭ লিটার গরম পানিতে সিদ্ধ করে। সেই পানি ঠাণ্ডা করে গোসল করাতে পোকা নিধন হয়, শরীরের খুসকি দূর হয় ও পড়ের সজিবতা বজায় থাকে। ১৫ দিন পর পর করাতে পারেন।

৩) অ্যাপেল সিডার ভিনেগার (Apple Cidar Vinegar):
১-২ টেবিল চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ১০-১২ লিটার পানিতে মিক্স করে ধরে পানিতে মিক্স করে ৫ মিনিট সময় হাতে ধরে ভাল করে গলা পর্যন্ত আঙ্গুল দিয়ে বিলি কেটে দিতে হবে যাতে পড়ের কোনায় বা গোড়াতে পানি পৌছাতে পারে ও শরীর বা পর ভিজে। এর পর ভাল পানিতে ভাল করে পরিস্কার করে নিতে পারেন। এতে কবুতরের শরীরের পোকা নিধন করবে অন্যদিকে খুসকি সহ পড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি কবুতরের শরীরে যে বোটকা গন্ধ হয় তা দূর করতে সাহায্য করবে। পানি ময়লা না হাওয়া পর্যন্ত যে কয়টি কবুতর গোসল দেয়া যায় করাতে পারেন। এই পদ্ধতিতে ১ মাস পর পর করাতে পারেন।



৪) পটাস (Potassium Chloride):
দুই আঙ্গুলের এক চিমটি পটাস ১০-১৫ লিটার সাধারণ পানিতে মিক্স করে ৫ মিনিট সময় হাতে ধরে ভাল করে গলা পর্যন্ত আঙ্গুল দিয়ে বিলি কেটে গোসল দিতে পারেন বা যারা ছেড়ে কবুতর পালেন বা যে সব কবুতর নিজে গোসল করে তাদের কে মাঝে মাঝে নিজেদের গোসলের সুযোগ করে দিলে ভাল হয়। যারা খাচাই পালেন তারা যদি একটি প্লাস্টিক বা মাটির পাত্রে এই পটাস মিশানো পানি দিয়ে দেন তাহলে কবুতর নিজে থেকে গোসল করে নিতে পারে বা যারা নিজে করে না অভ্যাস নাই তাদের ধরে করাতে পারেন। এতে ছোট পোকা ও খুসকি দূর করতে সাহায্য করবে। খেয়াল রাখবেন পানি যেন বেশী গাড় রং না হয়। যদি দেখেন বেশী ডিপ রং হয়েছে তাহলে আরও পানি মিক্স করে দিতে পারেন। এই পানি খেলে কোন ক্ষতি নাই। তবে পরিমান বেশী হলে, আর সেই পানি খেলে ক্ষতির কারন হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ১ মাস পর পর করাতে পারেন।

৫) ফিটকারী (Fitkari):
১ টি বড় ফিটকারী ১০-১৫ লিটার পানিতে ভাল করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পাই কে যাতে পাক খাওয়ানোর মত করে গুলে ৩০ মিনির রেখে নিচের তলানি টুকু ফেলে দিয়ে গোসল দিতে পারেন। বা ১ চা চামচ গুড়া ফিটকারী ভাল করে মিক্স করে ২ ঘণ্টা পর নিচের পানি টুকু ফেলে দিয়ে গোসলের জন্য ব্যবহার করতে পারেন আর এই পানি খেলে কবুতরের কোন সমস্যা নাই। এতে ছোট পোকা দূর করবে ও খুসকি সহ পড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিতে ১ মাস পর পর করাতে পারেন।

৬) ইংলিশ শ্যাম্পু (English Shampoo):
ইংলিশ শ্যাম্পুর ২-৩ টি মিনি প্যাকেট ১০-১২ লিটার পানিতে মিক্স করে ধরে পানিতে মিক্স করে ৫ মিনিট সময় হাতে ধরে ভাল করে গলা পর্যন্ত আঙ্গুল দিয়ে বিলি কেটে দিতে হবে যাতে পড়ের কোনায় বা গোড়াতে পানি পৌছাতে পারে ও শরীর বা পর ভিজে। এর পর ভাল পানিতে ভাল করে পরিস্কার করে নিতে হবে। যাতে শরীরের বা পড়ের মধ্যে শ্যাম্পু লেগে না থাকে। তাহলে কবুতরের গাঁ চুলকাবে ও ছোট গোটা হতে পারে ও খুসকি বেড়ে যাবে। এতে কবুতরের শরীরের পোকা নিধন করবে অন্যদিকে খুসকি সহ পড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি কবুতরের শরীরে যে বোটকা গন্ধ হয় তা দূর করতে সাহায্য করবে। পানি ময়লা না হাওয়া পর্যন্ত যে কয়টি কবুতর গোসল দেয়া যায় করাতে পারেন। এই পদ্ধতিতে ২-৩ মাস পর পর করাতে পারেন।





৭) এসিমেক ১% ভেট (Acimac 1%):
এসিমেক ১% ভেট(Iverrmectin) ঔষধ ইঞ্জেক্সন এম্পুল আকারে পাওয়া যায়। কবুতরের শরীরে ও পড়ের কনায় গোঁড়ায় ও পড়ের মধ্যে লেগে থাকা মাইট,ছোট বড় পোকা ও রক্ত চোষা মাছি নিধন করে। ১০-১৫ লিটার সাধারণ পানিতে ৫-৭ মিলি মিক্স করে মিক্স করে ৫ মিনিট সময় হাতে ধরে ভাল করে গলা পর্যন্ত আঙ্গুল দিয়ে বিলি কেটে দিতে হবে যাতে পড়ের কোনায় বা গোড়াতে পানি পৌছাতে পারে ও শরীর বা পর ভিজে। এই ভাবে ৭-১০ টি কবুতর কে গোসল করান যেতে পারে। ২-৩ মাস পর পর এই নিয়মে গোসল দেয়া যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে খামারের সব কবুতর কে করাতে হয় নাহলে পোকা কিছু কবুতরের মধ্যে থেকে গেলে পড়ে অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। অনেক বড় খামারি ও কবুতর এক্সপার্ট গন এই নিয়মে প্রয়োগ করে ভাল উপকার পেয়েছেন। এই পদ্ধতিতে ২-৩ মাস পর পর করাতে পারেন।

৮) তুঁতে (Copper Sulfate):
তুঁতে নীল আকারের মনোহারী দোকানে পাওয়া যায়। এটি কবুতরের শরীরের ফাঙ্গাস,খুসকি ও পোকার মারতে সাহায্য করে। ১ চা চামচ তুঁতে গুড়া করে ও ১ চা চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ১০-১৫ লিটার পানিতে মিক্স করে সাধারণ পানিতে মিক্স করে ৫ মিনিট সময় হাতে ধরে ভাল করে গলা পর্যন্ত আঙ্গুল দিয়ে বিলি কেটে দিতে হবে যাতে পড়ের কোনায় বা গোড়াতে পানি পৌছাতে পারে ও শরীর বা পর ভিজে। এই ভাবে ৭-১০ টি কবুতর কে গোসল করান যেতে পারে। এই পদ্দতিতে ১-২ মাস পর পর করাতে পারেন।
৯) লেবু (Lemon):
২-৩ টি লেবুর রস ১০-১৫ লিটার সাধারণ পানিতে মিক্স করে ৫ মিনিট সময় হাতে ধরে ভাল করে গলা পর্যন্ত আঙ্গুল দিয়ে বিলি কেটে দিতে হবে যাতে পড়ের কোনায় বা গোড়াতে পানি পৌছাতে পারে ও শরীর বা পর ভিজে। এই ভাবে ৭-১০ টি কবুতর কে গোসল করান যেতে পারে। এই ভাবে গোসল স্ট্রেস,খুসকি সহ পড়ের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
এছাড়াও মাঝে মাঝে পানি স্প্রে করে দিতে পারেন কবুতরের শরীরে যাতে শরীর ভিজে। আবার মাঝে মাঝে ভাল মানের জীবাণু মুক্তকারী ঔষধ বা ডেটল বা সেভনল দিয়েও গোসল করাতে পারেন। গোসল আপনার খামারের একটি অবশ্যকরণীয় কাজ হিসাবে বিবেচনায় রাখতে হবে। নাহলে আপনার সমস্থ পরিশ্রম বৃথা হয়ে যেতে পারে। তখন কপাল কে দোষারোপ করা ছাড়া আর কোন গতি থাকবে না।



এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয়

কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয়

আসসালামুয়ালাইকুম কবুতর প্রেমি ভাই, বোন এবং বন্ধুগণ! আশা করছি সকলেই মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *