শুক্রবার , সেপ্টেম্বর ২৪ ২০২১
Home / কবুতর পালন পদ্ধতি / কবুতরের রেস্ট বা ডিম নেওয়ার বিরতি কেন প্রয়োজন?
কবুতরের রেস্ট বা ডিম নেওয়ার বিরতি
কবুতরের রেস্ট বা ডিম নেওয়ার বিরতি

কবুতরের রেস্ট বা ডিম নেওয়ার বিরতি কেন প্রয়োজন?

আমরা অনেকে সখ থেকে কবুতর পালা শুরু করি কিন্তু পরে তা নেশা ও এরপর পেশা হিসাবে নেন বা নিতে পারেন কোন দোষের কিছু নাই। কিন্তু দোষ হল যে সেই প্রাণীটির দিকে খেয়াল না রাখা। সাধারনত নর এর থেকে মাদি কবুতরের জীবন কাল তুলনামূলক ভাবে একটু কম হয়। এর অনেক কারন গুলোর মধ্যে একটা কারন হল ঘন ঘন ডিম পারা ও বাচ্চা তুলা। একটা কবুতরের জন্য ডিম পাড়া ও বাচ্চা তুলাটা এবং সেই বাচ্চা তিলতিল করে বড় করা যে কি কষ্টের তা যদি কেউ সঠিক ভাবে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারতো তাহলে হয়তো তিনি বা তারা ডিম/বাচ্চা করানো বন্ধ করে দিতেন।

একজন সাধারন মানুষ যদি দিনে ২-৩ বার বমি করে তাহলে তাঁর শারীরিক অবস্থা কি হতে পারে? কিন্তু একটা কবুতর দিনের পর দিন অনবরত বাচ্চা কে এই ভাবে খাওয়াচ্ছে। আমি বলব না যে ডিম বাচ্চা করা বন্ধ করে দিতে কিন্তু এর মাঝে একটু রেস্ট দিতে হবে। যেমনঃ- আপনি ২মাস বাচ্চা নিয়েছেন এবার রেস্ট দিবেন। যেমনঃ- নর-মাদিকে আলাদা রাখা বা প্লাস্টিক ডিম দিয়ে বসিয়ে রাখা। আর এর মাঝে তাকে সুষম খাদ্য, ভিটামিন ও মিনারেলস সরবরাহ করা।



যদি কোন কবুতর ১৫ দিন বা ১ মাস ডিম দিতে দেরি করে তাহলে চিন্তার অন্ত থাকে না। কিন্তু কেউ এততুকু বুঝতে চায় না যে, এই প্রাণীটিরও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। কথায় বলে যে “একটা কবুতর ১২ মাসে ১৩ বার ডিম দেয় যদি স্বাভাবিক পরিবেশ ও সুষম খাবার পায়। কিন্তু খুব কম খামারিই আছেন যে তাদের এই অবস্থা নিশ্চিত করতে পেরেছেন।

আপনি যেমন ফসল বুনবেন তার ফলও তেমনি পাবেন। শুধু গম ভুট্টা খেতে দিয়ে আপনি কখনও ভাল ডিম/বাচ্চা আশা করতে পারেননা। কিছু খামারি আছেন যারা কিছু দামি জাতের কবুতর কে দিয়ে নিয়মিত ডিম নেন। আর ফসটার দিয়ে বাচ্চা পালেন। এই ভাবে ১২ মাসে ২২ বার বাচ্চা নেন ১০ মাদী ও ১ নর দিয়ে ব্রীড করেন ও ডিম নেন। আর এটা তারা গর্ব ভরে প্রচার করেও বেড়ান। এখন কেউ যদি এই ধরনের ব্রীডারকে কসাই বলে আখ্যায়িত করেন তাহলে কি ভুল বলা হবে? খামারি!!

প্রায় খামারি আছেন যারা ব্রিডিং জোড়া কিনতে পছন্দ করেন, যাতে বাসায় নিয়ে যাবার কিছু দিনের মধ্যে ডিম পারে বাচ্চা উঠায়। আর যদি সেই জোড়া বাসায় নিবার পর ১ মাস ডিম না দেয় তাহলে অস্থির হয়ে পরেন। আর বিক্রেতার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ফেলেন। কিন্তু কেন এরকম হচ্ছে কেউ একবারও ভাববার চেষ্টা করছেন না। ভাল কবুতর পেতে হলে নিজের কবুতরকে ভাল রাখতে হবে । আপনি ভাল কবুতর বিক্রি করলে , মানুষ ভাল কবুতর বাজারে পাবে ।



আমার জানা মতে কবুতরের জন্য এপ্রিল থেকে আগস্ট হচ্ছে সবচেয়ে ভাল সময় ডিম ফোটানোর জন্য । আমাদের ধৈর্য কম এবং অতি লোভের কারণে আমরা সাড়া বছরই বেবি ডিম ফোটাই । আমরা যদি অন্য সময় রেস্ট দেই আর যথাযত ঔষধ দেই তাহলে আরও ভাল ফলাফল পেতে পারি ।

★★ কিভাবে রেস্ট দিতে হবেঃ

(১) আমরা ২ জোরা বাচ্চা নিয়ে আবার নর-মাদিকে আলাদা করে ১৫-২০ দিন বিশ্রাম দিতে পারি , যেমনঃআপনি ২মাস বাচ্চা নিয়েছেন ২ জোড়া, আবার জোড়া ভেঙ্গে ১০-১৫ দিন রেস্ট দিবেন।

(২) নর-মাদি কে আলাদা রাখা বা ডিম পারার পর ডিম চেলে দিয়ে ঐ জোড়াকে প্লাস্টিক ডিম দিয়ে বসিয়ে রাখা।

(৩) একই সময় বাণজা কবুতরের নীচে একটা ডিম দিয়ে আর একটা ঐ জোড়াড় নীচে রাখা । বাচ্চা ফুটলে দুইজন দুই বাচ্চা পাললে শক্তি কম খরচ হয় ।

(৪) ডিমগুলো অন্য কবুতরের নীচে চাঈলা দেওয়া ।

(৫) বছরে ৪/৫ জোড়ার বেশি বাচ্চা না নেওয়া ।



(৬) ডিম ফেলে দিয়ে প্লাস্টিক এর ডিম দিয়া বসাইয়া রাখা । আর এর মাঝে তাকে সুষম খাদ্য, ভিটামিন ও মিনারেলস সরবরাহ করা।

=> আর নিচের ওষুধ দিতে পারি , ইনশাআল্লাহ্‌ ভাল ফল পাবেনঃ-

(১) কৃমির কোর্স.৬০ দিন পর পর ।

(২) হেমি কো পি এইস দিয়া সাল্মনেল্লা কোর্স করানো ।

(৩) বি কম ভিট খাওয়ানো ।

(৪) ক্যালসিয়াম খাওয়ানো ।

(৫) মাল্টিভিটামিন খাওয়ানো ।

(৬) ই সেল খাওয়ানো ।

(৭) থিও ভিট খাওয়ানো ।



(৮) জিস ভেট বা এইজাতীয় ওষুধ খাওয়ানো ।

(৯) কারমিনা হামদর্দ এর খাওয়ানো , হজম শক্তি ও রুচি বারে ।

(১০) হামদর্দ এর শাফি খাওয়ানো , রক্ত পরিষ্কার করে , গোটার প্রভাব ও কমে যায় ।

★★ বিশ্রাম না দিলে কি হতে পারেঃ-

১) কবুতর দুর্বল হয়ে মারা যেতে পারে ।

২) বাচ্চা অসুস্থ হবে । ল্যাংড়া , কানা , দুর্বল হবে ।

৩) কবুতর দীর্ঘদিন টিকবে নাহ ।

৪) বাচ্চা ভাল উরবে নাহ

৫) বাচ্চা ভাল রেজালট, করবে নাহ ।

৬) ঘন অসুস্থ হবে ।

৭) মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে ।

৮) যারা ভাল জাতের বাচ্চা কিনেন , আগে দেখবেন বিক্রেতা বছরে কয়বার বাচ্চা নেন , নতুবা অই বাচ্চা ভাল ফল পাবেন নাহ ।

৯) দ্রুত বাতিল বা রিজেক্ত হবে ।



১০) কবুতরের উর্বরতা কমে যাবে ।

মনে রাখবেন , সুস্থ বাচ্চা পেতে হলে , সুস্থ বাবা-মা প্রয়োজন ।

=> দীর্ঘ দিন ডিম না পারলে বা ডিমে বিরতি দিলেঃ

জোরা ভেঙ্গে দিন । নর মাদি আলাদা করুন । মিনিমাম ৩০-৬০ দিন ।

১) ই সেল খাওয়ানো । ২ ফোটা করে ১ দিন পর পর ১৫ দিন ।

২) কেলসিয়াম খাওয়ানো । ২ ফোটা করে ১ দিন পর পর ১৫ দিন ।

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *