Home / কবুতরের রোগ ও চিকিৎসা / কবুতরের চোখ ও কানের সমস্যার সহজ সমাধান
কবুতরের চোখ ও কানের সমস্যার সহজ সমাধান
কবুতরের চোখ ও কানের সমস্যার সহজ সমাধান

কবুতরের চোখ ও কানের সমস্যার সহজ সমাধান

কান ও চোখের সংক্রমন (Ear and Eyes Infection) দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথাঃ-

ক) ভাইরাল সংক্রমন।
খ) ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমন।

ক) ভাইরাল সংক্রমনঃ
এই সংক্রমে কবুতরের অবস্থার অবনতি হয় খুব তাড়াতাড়ি আর কিছু বুঝে উঠার আগেই ৩-৪ দিনের মধ্যেই মারা যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আপনার ভাল কবুতরের চোখ ঢেকে যাবে ও চোখের চারপাশে কাল কাল ছোপ ছোপ দাগ দেখা যাবে। চোখ পুজ ও পানিতে বন্ধ যাবে। নাকে পানি দেখা যাবে। কান দিয়ে গন্ধ যুক্ত বা গন্ধ হীন পানিতে পূর্ণ হয়ে যাবে। অনেক সময় মাথা কাপান দেখা যায়। আর এই সংক্রমনে কোন ঔষধে কাজ হয় না। আর তার সময়ও পাওয়া যায় না। তবে আই সংক্রমণের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যাতে খামারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।



এটিকে পিএমভি এর সংক্রমন এর প্রাথমিক বা বিকল্প লক্ষণ হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। এটি আগে বাংলাদেশে দেখা পাওয়া যায়নি। কিন্তু গত কিছুদিনের কবুতর খামারিদের আমদানি করা কবুতরের মাঝে এই ধরনের লক্ষণ দেখা গেছে। আর আশা করা যায় এটি এখন সাধারন ভাবে আমাদেরত দেশের আবহাওয়া তে বিরাজ করতে দেখে যেতে পারে। এক্ষেত্রে কবুতর মারা যাবার পর অবশ্যই পুতে ফেলতে হবে। আর খাঁচা গুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নিতে হবে। জীবাণু নাশক দিয়ে এই রোগের জীবাণু দূর করাটা একেবারে প্রায় বলতে গেলে অসম্ভব। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা কবুতরের নামে শুধু যে সৌখিনতা আমদানি করছি না সেই সাথে সাধারন কবুতর খামার ও পোলট্রি খামারির দের জন্য দুঃখ ও দুর্দশাও আমদানি করছি। যা হয়ত আমাদের কে চরম মূল্য দিয়ে পরিশোধ করতে হতে পারে। কবুতরের ভ্যাকসিন এর একমাত্র প্রতিষেধক। মনে রাখবেন আমাদের দেশে ভ্যাক্সিনের নামে যে, হাঁস মুরগির ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় তাতে করে কোন কাজ হবে না। সেটা ভাল করে মনে রাখার চেষ্টা করবেন।

খ) ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমনঃ
এই সংক্রমনে আপনি চিকিৎসা করার সময় পাবেন। আর অবস্থার অবনতি ওই রকম ভাবে দ্রুত হবে না। ফলে আপনি চিকিৎসা করার জন্য সময় পাবেন। আর এটি নিয়ে নিন্মে আলোচনা করার প্রয়াস করলাম।



★★ কারনঃ
১) যখন মাথার তরল ঘন রসাল পদার্থ কানের পর্দার কাছে এসে জমা হয় ও যদি বেরুতে না পারে। তখন সেটা জমে পর্দাতে আঘাত করে ও দীর্ঘদিন থাকার ফলে তা পচে সংক্রমণ ঘটে থাকে। কানের সাথে চোখের ও গলার একটা যোগাযোগ আছে টাই একটা আক্রান্ত হলে অপরি এমনিতেই আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

২) কবুতরের গায়ের মাইট বা পোকা কানে প্রবেশ করে ও কামড়িয়ে ক্ষত তৈরি করে থাকে। আর এর ফলে কানে ও চোখে সংক্রমন ঘটে।

৩) ঠাণ্ডা বা কানে পানি যাওয়ার ফলে এই ধরনের সংক্রমন ঘটে থাকে।

৪) অন্য কবুতরের আক্রমনে যদি কানে আঘাত লাগে তাহলেও সমগক্রমন ঘটতে পারে।

৫) অনেক সময় কবুতরের গুঁড়া কৃমি, কানে ও চোখে প্রবেশ করে এগুলোর টিস্যু তে ক্ষতি সধান করে। ফলে এই সংক্রমন ঘটে।



৬) অনেক সময় চোখের অন্য রোগের কারনে বা ডিপথেরিয়ার মত রোগের কারনেও আই সংক্রমন হতে পারে।

৭) অনেক সময় কানের ভিতরে পক্স বা ফোড়ার কারনে সংক্রমণ হতে পারে।

৮) প্রচণ্ড ভিটামিন ও মিনারেলস এর অভাব। বিশেষ করে এ, সি, ডি, ই, জিঙ্ক ইত্যাদি

★★ উপসর্গ বা লক্ষনঃ
১) কান ও চোখ হেজে যায় কান ও চোখ দিয়ে গন্ধ যুক্ত হলুদ ধরনের দুর্গন্ধ যুক্ত পানি বের হয়। চোখ ও কানে ময়লা জমে। অনেক সময় হাত দিয়ে পরিস্কার করলে সেই গন্ধ সহজে যেতে চাই না।

২) মাথা ঝাকান ও পাখার সাথে কান বা চোখ ঘসতে দেখা যায়।

৩) গায়ের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বশি থাকবে।

৪) খাওয়া দাওয়া করবে না ও পানি পান থেকে বিরত থাকবে।

৫) সবুজ সাদা বা সবুজ পানির মত পাতলা পায়খানা করতে পারে। তবে ক্যাখানার পরিমান অনেক কম থাকে।

৬) কানের ও চোখের পাশে চটচটে ধরনের আঠাল পানি লেগে কানের বা চোখের পাশে পর ভিজে থাকতে পারে। তবে গন্ধ থাকবে।



৭) কানের ফুটা হেজে যাবার কারনে একটু বড় দেখাতে পারে। চোখের চারপাশ ফুলা থাকবে পানি নাও থাকতে পারে।

৮) হাঁটাচলা কম করবে ও লোম ফুলিয়ে বসে থাকে, এমন কি ধরতে গেলেও পালাতে চাইবে না। ব্যাথার কারনে শরীর আড়ষ্ট হয়ে যাবে।

৯) যন্ত্রণা তে অস্থির থাকার ফলে জোরে জোরে শ্বাস নিবে।

★★ প্রতিকার ও প্রতিরোধঃ
১) উন্নত মানের মাল্টি ভিটামিন,এ, সি, ডি, ই , বি কমপ্লেক্স, সেলিনিউম ও কপার ইত্যাদি ভাল কাজ করে প্রতিরোধে ও প্রতিকারেও।

২) Orasin K তৈরি করে ১ মিলি+ Contrim ১ মিলি +ফ্লাযিল সিরাপ ১ মিলি+স্যালাইন ১ গ্রাম= ৩ মিলি পানিতে মিক্স এভাবে করে দিনে ৩ বার ৪-৫ দিন। আর রাইস স্যালাইন দিতে ভুলবেন না যেন।

৩) যদি ৩ দিনের মধ্যে কাজ না হলে Enflox-Vet Solution ৪-৫ ফোঁটা+ Contrim ১ মিলি +১ গ্রাম স্যালাইন=৩-৪ মিলি পানিতে মিক্স করে দিনে ২-৩ বার ৪-৫ দিন প্রয়োগ করতে হবে।



৪) উপরের ২ নং এর সাথে এই চিকিৎসা দিতে হবে BETRICIN-N অথবা METHASOL-N= eye/ear ড্রপ ১ ফোঁটা করে দিনে ৪-৫ বার ২ চোখে ও কানে ৫ দিন । তবে তার আগে তুলা দিয়ে পানি গুলো পরিস্কার করে নিতে হবে। তবে কানের ভিতরে তুলা বা বার দিয়ে যাবে না।

৫) যদি উপরের কোনটাতে কাজ না হয় তাহলে Bipen-Vet Injection টা প্রয়োগ করতে হবে ১ মিলি করে কবুতরের বুকের মোটা অংশে। দিনে ১ বার ৩ দিন। এক্ষেত্রে ৫ মিলি এর সিরিঞ্জ ব্যাবহার করতে হবে, তা না হলে এই ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে না ঘনত্তের কারনে। একটা ভায়াল একবারই ব্যাবহার করা যাবে। সিরিঞ্জ একবার ব্যাবহার করে ফেলে দিবেন। এটি প্রয়োগ করলে হয় কবুতর একেবারে ভাল হয়ে যাবে অথবা চিকিৎসা করার আর প্রয়োজন নাও হতে পারে অর্থাৎ সে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যাবে।

৬) একটা কাপড় দিয়ে চোখে ও কানে সেঁক দিলে এই রোগের ভাল উপকার হয়।



🚫 সতর্কতাঃ
এই রোগে কবুতর আক্রান্ত হলে আগে কবুতর কে খামারে বাইরে যেখান থেকে কোন প্রকার জীবাণু প্রবেশের সম্ভাব নাই, সেখানে নিতে হবে। চিকিৎসা চলাকালে হ্যান্ড গ্লভস ব্যাবহার করতে হবে। চড়ুই পাখি প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। দর্শনার্থী প্রবেশ ঠেকাতে হবে ও বাইরে থেকে এসে কাপড় পরিবত্তন না করে খামারে ঢুকা যাবে না।

আমাদের আমদানি করা কবুতর কেনার ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শুধু লাভের আশাতে কিনে নদীর পানি ঢুকে যেন পুকুরের পানি বের না হয়ে পড়ে। আমার পোস্ট গুলো আপনাদের পথ নির্দেশনা মাত্র, বাকিটা পথ আপনি কিভাবে চলবেন সেটা আপনার থেকে ভাল আর কেউ জানে না কারণ আপনি আপনার কবুতরের খামারের অভিভাবক তাই সিধান্ত আপনাকেই নিতে হবে যে আপনি আপনার কবুতর ও খামার কিভাবে চালনা করবেন। তবে যাই করেন না কেন একটু সাধারন জ্ঞান প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন, কারণ স্মার্টনেস শুধু পোশাকে নয় কর্মেও প্রদর্শন করা উচিৎ। আর আপনি যদি আপনাকে দিয়ে বিচার করেন মানে এটা চিন্তা করেন যে আপনার কোন ধরনের সমস্যা হলে সে পর্যায়ে আপনি কি করতেন তাহলেই আপনার সমাধান আপনি পেয়ে যাবেন আশা করি।
পরিশেষে, “অসৎ লোক কাউকে সৎ মনে করে না, সকলকেই সে নিজের মত ভাবে।“ -হজরত আলী (রাঃ)

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা

কবুতরের গোটা/পক্স/বসন্ত রোগের সহজ চিকিৎসা

আজকে আমি কবুতরের যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করব সেটা হল কবুতরের পক্স, বসন্ত বা মশার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *