Home / কবুতরের যত্ন / শীতে কবুতরের যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে
শীতে কবুতরের যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে
শীতে কবুতরের যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে

শীতে কবুতরের যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে

আসসালামু আলাইকুম কবুতর প্রেমি ভাই, বোন এবং বন্ধুগণ! আশা করি সবাই আল্লাহ তায়ালার অসীম কৃপায় ভালো আছেন।

শীতের আগমনের সাথে সাথে সকল কবুতর পালকরা একটু বেশি ব্যাস্ত সময় পার করছেন। শীতে কবুতরের কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে? আজকের পোস্টে এ বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো। আশা করি সম্পূর্ণ ভিডিওটি মনোযোগ সহকারে দেখবেন।




শীতের সময়টা কবুতরদের জন্য একটু খারাপ সময়। এই সময়টাতে কবুতর বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে দেখা যায়। মূলত এই সময়টাতে একদিকে যেমন বিভিন্ন রোগের জীবাণু গুলো সক্রিয় হয় অপর দিকে কবুতরগুলো শীতের কারণে চলাফেরা, খাবার ও পানি গ্রহনের পরিমান হ্রাস, রেসিং বা ফ্লাইং মৌসুমের কারনে বহিরাগত কবুতরের সংস্পর্শে আসা ইত্যাদি কারণে কবুতর বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়।কেননা এসময়টাতে কবুতরের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একটু কমে যায় ফলে পূর্বে কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল কিন্তু সুস্থ হয়ে গিয়েছে এমন কবুতরের মাধ্যমে মূলত শীতকালীন রোগ গুলো বেশি আক্রমণ করে।




একবার যদি কোন ভাবে এসব রোগের ভাইরাস কবুতরের শরীরে দেখা দেয় তবে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ক্ষতির পরিমাণ ৯৫% – ১০০% হতে পারে। সুতরাং এই সময়টাতে কবুতর খামারিদের বিভিন্ন সর্তকতা অবলম্বন করা জরুরী। যদিও এ সময় টা কবুতরের ব্রিডিং এর সব থেকে উত্তম সময় হিসাবে ধরা হয়, যদি আপনি সঠিক ভাবে খামার ব্যবস্হাপনা অনুসরণ করতে পারেন তবে সফলতার হার ১০০%। এছাড়াও শীত মৌসুমটা রেসিং এবং হাইফ্লায়ার কবুতরের জন্য সব থেকে উপযুক্ত সময়। বিশ্বের বড় বড় রেসার ও হাইফ্লায়ার পালক থেকে শুরু করে ছোট ছোট খামারিরা এই সময়টাকে রেসিং বা হাইফ্লাইং প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার জন্য এই সময়টাকে আদর্শ সময় হিসাবে ব্যবহার করেন।




শীতে কবুতরের যে সকল সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো:

১.শীতে মশা, পোকা, মাইট এ জাতীয় পরজীবি পোকার প্রাদুর্ভাব বেশী হয়। এগুলো কবুতরের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

২.শীতে বিভিন্ন জীবানু সব থেকে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে যা কবুতর এর জন্য হুমকিস্বরুপ।

৩.কখনো কখনো কবুতর এর শরীরের সাভাবিক তাপমাত্রা ৪৫° থেকে কমে যায়। ফলে কবুতর অসুস্থ হয়ে পরে।

৪.ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপ বহুগুনে বেরে যায়। যেমনঃ চোখ ওঠা, কারন ছাড়া ঝিমানো, সর্দি-কাশিতে ঘরঘর করা, মুখ হা করে শ্বাস নেয়া ইত্যাদি।



৫.শীতে সাল্মোনেল্লা, ই কোলাই সহ অনান্য ক্ষতিকর গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া এর কার্যকারিতা বহুগুনে বৃদ্ধি পায়। যা কবুতর এর জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরুপ। এর আক্রমনে সম্পুর্ণ লফ্ট ধংশ হয়ে যেতে পারে।

৬.শীতে কবুতরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক ভাবে হ্রাস পায়।

৭.অনেক সময় অনেক রোগের জীবানু কবুতর এর শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকে শীত এলে এসব জীবানু সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

৮.শীতে ডায়রিয়া ও পা অবস বা পেরালাইসিস এর মত রোগ এর প্রকোপ দেখা দেয়।

উপরোক্ত বিষয় গুলো ছাড়াও আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেই সমস্যাই আসুক না কেন মাথা ঠান্ডা রেখে অভিঙ্গ কারো পরামর্শ নিয়ে সমস্যার সমাধান করবেন।

আজকে এ পর্যন্তই। আগামী পোস্টে আলোচনা করবো- শীত মৌসুমে আপনার কবুতরকে কিভাবে সুস্থ রাখবেন এ সম্পর্কে।

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয়

কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয়

আসসালামুয়ালাইকুম কবুতর প্রেমি ভাই, বোন এবং বন্ধুগণ! আশা করছি সকলেই মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *