শুক্রবার , সেপ্টেম্বর ২৪ ২০২১
Home / কবুতরের যত্ন / কবুতরের গায়ে উকুন, পোকা, মাছি দূর করার সহজ উপায়
কবুতরের গায়ে উকুন, পোকা, মাছি দূর করার উপায়
কবুতরের গায়ে উকুন, পোকা, মাছি দূর করার উপায়

কবুতরের গায়ে উকুন, পোকা, মাছি দূর করার সহজ উপায়

আমরা যারা কবুতর পালি তারা অনেকেই কবুতরের গায়ে উকুন, পোকা, মাছির সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে, কবুতরের গায়ে উকুন ও মাছি হলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কি করনীয় অর্থাৎ কি করলে এই পোকা গুলো দূর করা যাবে সেসব বিষয় নিয়ে আজকে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি কি কি কাজ করলে আপনার কবুতরের গায়ে উকুন পোকা বা মাছি আর হবেনা সেসব বিষয় নিয়েও আলোচনা করবো। তাহলে শলুন আলোচনাটি শুরু করি-

প্রথমেই আলোচনা করবো, কবুতরের গায়ে যদি উকুন বা পোকা হয় তাহলে কবুতরের শরীরে কি কি প্রভাব পড়তে পারে অর্থাৎ অপকারিতা নিয়ে-




👉কবুতরের গায়ে পোকা হলে কবুতর খুব অস্বস্তিতে ভোগে।
👉কবুতরের গায়ে অধিক পরিমাণ চুলকানি হয়।
অনেক সময় অতিরিক্ত চুলকানির কারণে কবুতর ডিমে বসা থাকলে ডিম থেকে অনেক সময়ে উঠে যেতে পারে। এটি হয়ে থাকে কবুতরের গায়ে অধিক পরিমাণে চুলকানি এবং অস্বস্তির কারণে।
👉 এই সমস্যা হলে কবুতর অনেক সময় খেতে চায় না ।
👉অধিক পরিমাণে উকুন হওয়ার ফলে কবুতর অনেক সময় অসুস্থ হয়েও যেতে পারে।
আবার অনেক সময় কবুতর শুকিয়ে যেতে দেখা যায়।




👉এই ধরনের উকুন পোকা বা মাছিগুলো কবুতরের শরীরের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। যেমন আমাদের মানুষের মাথায় কখনো উকুন হলে সেই উকুনগুলো যেমন অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করে এবং সেই উকুন গুলো কিন্তু আমাদের মাথার রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। ঠিক তেমনি কবুতরের গায়ে উকুন গুলো কবুতরের গায়ের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে। যার কারণে কবুতর অসুস্থ হয়ে যেতে পারে এবং শুকিয়েও যেতে পারে। এছাড়াও আপনি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।




এবারে জেনে নেয়া যাক আপনার কবুতরের যদি উকুন বা পোকা হয়ে থাকে তাহলে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সেগুলো দূর করা সম্ভব-
চারটি ওষুধের নাম বলে দিচ্ছি, আপনারা যে কোন একটি ওষুধ এখান থেকে ব্যবহার করতে পারেন।

১। ইলেক্টনিল ভেট ( electonil vet)

২। ইভারমেক ভেট ( ivermec vet) prize-46 tk

৩। এ মেকটিন ভেট (a mectin vet)

৪। Temsen( USS) Powder




ইলেক্টনিল ভেট ওষুধটি 1 লিটার পানিতে 1 গ্রাম পরিমাণ মিশিয়ে ভালো করে নাড়াতে হবে। তারপর সেই পানিতে আপনার পোকা আক্রান্ত কবুতর টি ধরে ভালো করে গোসল করিয়ে দিতে হবে। এই সময়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। গোসলের পানি যেন কবুতরের চোখে মুখে না লাগে। অর্থাৎ আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে কবুতর যেন কোনোভাবেই ওষুধ মিশ্রিত পানি না খেয়ে ফেলে। এই ওষুধটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং এটি ব্যাবহার করে আমি নিজে অনেক ভাল ফলাফল পেয়েছি।




ইভারমেক ভেট এবং এ মেকটিন ভেট এই ঔষধ দুটি ড্রপ আকারে পাওয়া যায়। এই ওষুধ দুটি ব্যবহারের নিয়ম হলো, আক্রান্ত কবুতরটিকে ধরে কবুতরের ঘারে এবং বুকের চামড়ায় এক ফোঁটা করে দিয়ে দিতে হবে। আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ওষুধটি যেন চামড়ায় দেয়া হয়। কবুতরের গায়ের লোম সরিয়ে ফাঁকা করে চামড়া বের করে এক ফোঁটা ওষুধ সেখানে দিয়ে দিতে হবে। ওষুধটি যদি কবুতরের লোমে দেয়া হয় তাহলে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। অবশ্যই ঔষধটি কবুতরের চামড়ায় ব্যবহার করতে হবে।



একবার ব্যবহার করার পর যদি সম্পূর্ণ গায়ের উকুন দূর না হয় তাহলে একদিন পরে আবার এক ফোটা ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন। আপনাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ওষুধটি যেন কবুতরের চোখে মুখে না লাগে। ঔষধটি ব্যবহারের এক বা দুই দিন পরে কবুতরকে গোসল করিয়ে দেবেন। এই সময়ে গোসলের পানির সাথে পটাশ বা স্যাভলন ব্যবহার করতে পারেন।



Temsen( USS) Powder হাফ গ্রাম পাউডার 1 লিটার পানির সাথে মিশিয়ে কবুতরকে হাতে ধরে স্প্রে করে গোসল করিয়ে দিবেন মাথায় হাত দিয়ে পানি দিয়ে দিবেন।

এখন আলোচনা করা যাক কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আপনার কবুতরের গায়ে উকুন, পোকা, মাছি আর হবে না-
👉নিয়মিত আপনার কবুতরকে অবশ্যই গোসল দিতে হবে। অনেকেই মনে করেন কবুতরকে গোসল দেয়া যাবেনা বা কবুতরকে গোসল দেয়া উচিত নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা কবুতরের ভালো স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত গোসল অত্যন্ত প্রয়োজন।



👉গোসলের সময় পটাশ বা স্যাভলন ব্যবহার করতে পারেন এতে করে কবুতরের গায়ে পরজীবী আক্রমণের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে।

👉সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো কবুতরের ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে আপনি আপনার কবুতরকে পরজীবীর হাত থেকে বাঁচাতে পারেন।



👉বাজার থেকে নতুন কোন কবুতর কিনে আনলে অবশ্যই কবুতর পোকা বা মাছিতে আক্রান্ত কিনা সেটি পর্যবেক্ষণ করে খামারে ঢুকাতে হবে। যেহেতু এই উকুনগুলো একটা কবুতর থেকে অন্য কবুতরের সংক্রমিত হয় তাই আক্রান্ত কবুতর কে যদি ভাল কবুতর এর কাছ থেকে আলাদা করে নিয়ে চিকিৎসা করা না হয় তাহলে অন্যান্য কবুতর পোকা বা মাছিতে আক্রান্ত হবে।



সতর্কতাঃ
এক মাস বয়সের আগে কবুতরকে উকুন বা পোকা মারার কোন ধরনের ওষুধ ব্যবহার না করাই ভালো। এতে করে আপনার বাচ্চা কবুতরের ক্ষতি হতে পারে। তাই আপনার কবুতরের যখন এক মাস বয়স হবে তখনই পোকা বা মাছি দূর করার ওষুধ গুলো ব্যবহার করবেন।



যখন কোন কবুতরের পোকা বা মাছির চিকিৎসা করা হবে তখন সেই কবুতরটিকে অন্য ভালো কবুতর থেকে আলাদা করে নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। কারণ যখন গায়ে ওষুধ প্রয়োগ করা হয় তখন মাছি বা পোকা গুলো বেরিয়ে যেতে থাকে। তখন যদি মাছিগুলো অন্য কোন কবুতর পায় তখন সেই কবুতরগুলো আবার মাছি বা পোকায় আক্রান্ত হতে পারে। তাই আক্রান্ত কবুতরকে অবশ্যই আলাদা করে নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে।



ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে কবুতর ওষুধগুলো খেয়ে না ফেলে বা কবুতরের মুখে বা চোখে না লেগে যায়। এমনটি হলে কবুতর অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং নিজ কবুতরের খেয়াল রাখবেন।

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের গ্রীষ্মকালীন খাবারের ছক

কবুতরের গ্রীষ্মকালীন খাবারের ছক

কবুতর পালন করতে গিয়ে আমরা অনেক কাজ করে থাকি আসল কাজ বাদ রেখেই। এই সেক্টরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *