বৃহস্পতিবার , সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২১
Home / কবুতরের যত্ন / কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয়
কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয়
কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয়

কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয়

আসসালামুয়ালাইকুম কবুতর প্রেমি ভাই, বোন এবং বন্ধুগণ! আশা করছি সকলেই মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। কবুতরের হিটস্ট্রোক প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয় নিয়ে আজকে ভিডিওতে আলোচনা করবো। তাহলে চলুন আলোচনা শুরু করি-

১) অ্যাঁলভিরা হল সবচেয়ে ভাল প্রাকৃতিক রোগ নিরাময় উপাদান। এটি পানি শূন্যতা ও তাপ জনিত সমস্যা থেকে তড়িৎ মুক্তি দেয়। একটি অ্যাঁলভিরার পাতা ছিলে এর ভিতরের জেল ব্লেন্ড করে ১ লিটার পানিতে মিক্স করে সাধারন খাবার পানি হিসাবে দেয়া যেতে পারে মাসে ৩-৪ দিন। এর সাথে তাল মিস্রি মিক্স করে দিলে আরও ভাল উপকার পাওয়া যায়। অ্যাঁলভিরা প্রকৃতি প্রদত্ত এক্তি নিয়ামত এটিতে সব ধরনের উপাসান বিদ্যমান কেউ যদি মনে করেন যে তার খামারে অন্য কোন ভিটামিন ও মিনারেলস দিবেন না অ্যাঁলভিরা ছাড়া সেটা তার জন্য যথেষ্ট হবে। এটি একাধারে রোগ নিরাময়ক অন্য দিকে ভিটামিন ও মিনারেলস এর উৎস।




২) অ্যাপেল সিডার ভিনেগার আরেকটি ভাল উপাদান কবুতরের শরীর কে ঠাণ্ডা ও ইমিউন সিস্টেম কে সবল রাখতে। ১ মিলি অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ১ লিটার পানিতে মিক্স করে মাসে ১-২ দিন দিয়া যেতে পারে সাধারন খাবার পানি হিসাবে।
৩) পুদিনা পাতা বেঁটে ১-২ চামচ পুদিনা পাতা+ ১ টি লেবুর রস ১ লিটার পানিতে মিক্স করে ছেকে নিয়ে সাধারন খাবার পানি হিসাবে দেয়া যেতে পারে মাসে ২-৩ দিন। এর সাথে তাল মিস্রি মিক্স করে দিতে পারেন।
৪) ধনে পাতা বেঁটে ১-২ চামচ পুদিনা পাতা+ ১ টি লেবুর রস ১ লিটার পানিতে মিক্স করে ছেকে নিয়ে সাধারন খাবার পানি হিসাবে দেয়া যেতে পারে মাসে ২-৩ দিন।




৫) ১ টি লেবুর রস+২ চামচ লবন= ১ লিটার পানিতে মিক্স করে ছেকে নিয়ে সাধারন খাবার পানি হিসাবে দিয়া যেতে পারে মাসে ২-৩ দিন। এর সাথে তাল মিস্রি মিক্স করে দিতে পারেন।
৬) কমলা লেবুর জুস পানির সাতে মিক্স করে দিতে পারেন এতে ভিতামিন সি এর অভাব পুরন হবে এর সাথে সাথে তাল মিস্রি মিক্স করে দিতে পারেন।
৭) হামদারদ এর রূহ আফজা ২-৩ চামচ ১ লিটার পানিতে মিক্স করে দিতে পারেন। এর সাথে তাল মিস্রি মিক্স করেও দিতে পারেন।
৮) হামদারদ এর কুলজাম ১-২ চামচ ১ লিটার পানিতে মিক্স করে সাধারন খাবার পানি হিসাবে দিতে পারেন মাসে ১ দিন।




৯) আপনি যদি নিশ্চিত থাকেন যে আপনার কবুতর হিট স্ট্রোক বা এই ধরনের সমস্যাই আক্রান্ত তাহলে অনতি বিলম্বে গলা পর্যন্ত ধরে ভাল করে গোসল করানোর ব্যাবস্থা করবেন। যদিও সাধারন ভাবে তাদের কে পানি দিয়ে সপ্তাহে ২-৩ দিন গোসলের পানি সরবরাহ করতে পারেলে ভাল যদি তা না পারেন কমপক্ষে ২ দিন গোসলের ব্যাবস্থা করবেন। কিছু কবুতর আছে যারা নিজে গোসল করতে চাই না। তাদের ধরে গোসলের ব্যাবস্থা করবেন।
১০) খামারে নিয়মিত বাতাস চলাচলের ব্যাবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে বাতাস প্রস্থান ফ্যান ও সিলিং ফ্যান এর ব্যাবস্থা করতে হবে।
১১) কবুতরের গ্রিট সরবরাহ করতে হবে নিয়মিত।




১২) গরমে কবুতর পাতলা পায়খানা করে থাকে। আর অনেকেই আছেন যারা এ ধরনের পাতলা পায়খানা দেখে নানা ধরনের অ্যান্টিবায়টিক প্রয়োগের পরামর্শ দেন যা আদৌ ঠিক না। এতে এদের শরীর কুলিং সিস্টেম এ বাধা প্রাপ্ত হয়। অ্যান্টিবডি যা রোগ প্রতিরোধ করে সেটি নষ্ট হয়ে যায়। আপনি যদি মনে করেন যে আপনার কবুতর বেশি পাতলা পায়খানা করছে তাহলে হামদারদ এর ডিসনী নামে ট্যাবলেট ১ টা করে দিনে ৩ বার ৩ দিন দিতে পারেন। সাধারন ভেটেনারি স্যালাইন বা রাইস স্যালাইন দিতে পারেন পানু শূন্যতা রোধ করার জন্য যাতে করে আপনি অন্য চিকিৎসা করার সুযোগ পান।




১৩) এ ব্যাপারে আর বিস্তারিত জানতে পানি শূন্যতা ও স্ট্রেস নামে পোস্ট দুটি পড়তে পারেন।
১৪) এই সময় কবুতর কে জীবাণু মুক্ত স্প্রে বা সাধারন পানি স্প্রে করবেন প্রতিদিন, খামার ও ট্রে পরিস্কার করবেন পারলে প্রতিদিন না হলে ২ দিন পর পর, কারন এটি খুবই জরুরি।
১৫) হোমিও Belodona 30, ১ সিসি/মিলি করে ১ লিটার পানিতে মিক্স করে মাসে ১-২ দিন দিতে পারেন। এটি এই ধরনের সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে।
১৬) আনারস জুস, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, গ্লুকজ হিট স্ট্রোক রোধে ভাল ভুমিকা রাখে।

🚫 সতর্কতাঃ
১) গরমে ভিটামিন k,ad3,Calcium ও D বেশি দিবার চেষ্টা করবেন না ডিম পাড়ানোর জন্য কারন এই জাতীয় ভিটামিন গুলো শরীরের তাপ বৃদ্ধি করে ফলে কবুতরের হিট স্ট্রোক হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 🚫




২) পাতলা পায়খানা হলে অ্যান্টিবায়টিক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকুন। কারন অ্যান্টিবায়টিক প্রয়োগ করলে বেশি পানি পান করাতে হয়। কিন্তু যেহেতু আগেই এদের শরীরে পানির ঘাটতি থাকে তাই এতে এদের প্রান ঘাতিও হতে পারে।
৩) সাধারন ঠাণ্ডা তে কোন প্রকার অ্যান্টিবায়টিক প্রয়োগ না করা কারন এ ক্ষেত্রে এর বিপরিত ফ্ল বয়ে আনতে পারে। বিসেস করে কসমিক্স প্লাস এর মত ঔষধ এক্ষেত্রে প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। এখন খামারি বা কবুতর পালকের যত বেশি কমন সেন্স থাকে তিনি তত ভাল কবুতর পালক। অনেকেই মনে করে থাকেন যে ঠাণ্ডাতে কবুতরের সমস্যা হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে ঠাণ্ডাতে একটি কবুতরের যত না সমস্যা হয় তার থেকেও দ্বিগুণ সমস্যা হয় গরমে, আর এটি মানুষের ক্ষেত্রেও সত্য কততুকু যারা ভুগেন তারাই জানেন।




🚫 আমরা নিজেরা যখন ঠাণ্ডা বা ডায়রিয়াতে ভুগি তখন কিন্তু আমরা অ্যান্টিবায়টিক ব্যাবহার করি না। কিন্তু কবুতর ও পাখির ক্ষেত্রে সেটা অবলীলায় করে থাকি ।
👉 কিন্তু কেন?

এর সঠিক উত্তর কেউ মনে হয় দিতে পারবে না। অধিকাংশ পাখি ও কবুতর লিভার ও কিডনি সমস্যাই ভুগে থাকে আর এর অন্যতম কারণ পানি ও অতিরিক্ত ঔষধের ব্যবহার। আমারা যদি একটু খেয়াল রাখি তাহলে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে নিরাপদ রাখতে পারি আমাদের খামার এবং কবুতরকে ।

❣️” ধন্যবাদ ” ❣️

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের গ্রীষ্মকালীন খাবারের ছক

কবুতরের গ্রীষ্মকালীন খাবারের ছক

কবুতর পালন করতে গিয়ে আমরা অনেক কাজ করে থাকি আসল কাজ বাদ রেখেই। এই সেক্টরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *