শুক্রবার , সেপ্টেম্বর ২৪ ২০২১
Home / অন্যান্য / কবুতর কেনার আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল করতে হবে
কবুতর কেনার আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল করতে হবে
কবুতর কেনার আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল করতে হবে

কবুতর কেনার আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল করতে হবে

আসসালামুওয়ালাইকুম ভিউয়ার’স। কেমন আছেন সবাই। আশা করি সবাই ভালো আছেন। কবুতর কেনার আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল করতে হবে সে বিষয়গুলো নিয়ে আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। আশা করি আজকের আলোচনায় সবাই উপকৃত হবেন। তাহলে চলুন আলোচনা শুরু করি-

১- কবুতর এমন কারও কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে, যিনি নিয়মিত ঠিকঠাকভাবে কবুতরের যত্ন নেন ৷
২- কবুতর কেনার আগে কবুতরের পায়খানা পরীক্ষা নেয়া উচিত ৷ মুখের ভেতর দেখে নিতে হয়৷ মুখের ভিতর কফ, সাদা বা হলুদ ঘা আছে কি না ৷ কবুতর হাতে নিয়ে কবুতরের স্বাস্থ্য দেখে নিতে হবে ৷




৩- বাচ্চা কবুতর কেনার সময় ডানার নিচে দেখে নিতে হবে ৷ অনেক সময় মুখে, ঠোটে পক্স না থাকলেও ডানার নিচে থাকে ৷.
৪- কবুতরের পা ধরে উড়িয়ে দেখতে হবে, এতে পাখায় সমস্যা থাকলে বুঝতে পারবেন।
৫- প্রথম দিকে বয়স্ক কবুতর না কিনে কম বয়সী কবুতর কেনা ভালো ৷ বয়স্ক কবুতর বলে বিক্রেতা আপনাকে বুড়ো কবুতরও দিতে পারে ৷
৬- বুকের খাচা দেখতে হবে ৷ বেশি বয়স্ক কবুতরের বুকের খাচা শুকনো বা বের হয়ে থাকে বা অনেক দিনের অসুস্থ কবুতরের বুকের খাচা বের হয়ে বাকা হয়ে যায়।
৭- ক্রস জোড়া না কিনে একই জাতের জোড়া কেনা উত্তম ৷
৮- পা ভাল করে খেয়াল করা ৷ পা বাকা থাকতে পারে, হাটার সমস্যা থাকতে পারে। পায়ের নখ এবং আঙ্গুল ভাল করে লক্ষ করা, নখ বা আঙ্গুল বাকা থাকতে পারে, পায়ে ক্ষতও থাকতে পারে ৷




৯- পাখা বা লেজের পালক উঠানো কিনা ভাল করে খেয়াল করা। অনেক সময় ফাটা পালক উঠিয়ে বিক্রি করা হয়।
১০- লেজের নিচে দেখতে হবে ৷ অসুস্থ কবুতরের পায়খানার রাস্তার আশেপাশে ময়লা বা বিষ্ঠা লেগে থাকে।
১১- কবুতরের জোড়া পরীক্ষা করে কিনতে হবে৷ বিক্রেতারা অনেক সময় দুটো নরকে মাদী এবং মাদীকে নর বলে চালিয়ে দেয়৷ একটু আড়ালে নর কবুতরের সামনে মাদী কবুতর রাখলে নর কবুতর ডাকবে৷ এছাড়াও নর মাদীর বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে নেয়া উচিত ৷
১২- আলাদা কবুতর নিলে সাথে সাথেই একসাথে না রেখে ৩/৪ দিন আলাদা রাখলে ভালো হয় ৷ নিয়ে এসেই একসাথে রাখলে মারামারি শুরু করে দিতে পারে ৷ ৩/৪ দিন আলাদা রাখলে আগের সঙ্গীর কথা ভুলে গিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে নতুনটার সাথে ভাব জমাবে ৷




১৩- যত বড় খামার থেকেই কবুতর কিনুন না কেন, কবুতর নিয়ে আসার পর পটাশ বা টিমসেন মেশানো পানিতে গোসল করাতে হবে ৷ এতে কবুতরের শরীরে যদি জীবাণু থাকে, তবে তা দূর হয়ে যাবে ৷ কবুতর যদি বিকেলে বা রাতে আনা হয়, তবে কবুতরকে আলাদা রেখে পরদিন গোসল করিয়ে দিতে হবে ৷ এবং নতুন আনা কবুতরের প্রতি একটু বেশী খেয়াল করতে হবে ৷ নতুন পরিবেশ, খাবার, ভ্রমন ইত্যাদি কারনে একটু অসুস্থ হতে পারে ৷
১৪- দূর থেকে কবুতর আনার পর কবুতরকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে ৷
১৫- নতুন কবুতরকে ৩/৪ দিন আলাদা রাখতে হবে ৷ কোন রোগ নাই, নিশ্চিত হবার পর খামারে দিতে হবে ৷ আর অসুস্থ হলে চিকিৎসা করে সুস্থ হবার পর খামারে দিতে হবে ৷



১৬- কবুতর ছেড়ে পালতে চাইলে নতুন কবুতরের ডানার প্রাথমিক ফ্লাইট (উপরের দিকের দশ পালক) পালকগুলো বেধে রাখতে হবে ৷ যেন উড়ে না যায় ৷ টেপ, সুতা বা অন্য কিছু দিয়ে কবুতরের পাখা বেধে রাখা যায় ৷ এক সপ্তাহ বেধে রাখলেই কবুতর আর উড়ে যাবার সম্ভবনা থাকে না ৷ এক সপ্তাহ পর এক ডানার পালকগুলো ছেড়ে দিয়ে খেয়াল করতে হবে, কবুতর নিজেই ঘরে উঠতে চায় কিনা ৷ যদি নিজে নিজে ঘরে উঠতে চায়, তবে দুই ডানাই ছেড়ে দিতে হবে ৷ কিছু কবুতর আছে, যেগুলো একমাস বেধে রাখলেও চলে যাবে ৷ এজন্য বাচ্চা কবুতর ভালো ৷ কবুতরকে ঠিকমত খাবার না দিলেও কবুতর উড়ে যায় ৷ কবুতর একটা হারিয়ে গেলে দ্রুতই আরেকটি এনে জোড়া মিলিয়ে দিতে হবে ৷




১৭- আমরা সস্তার পাগল ৷ দামি কবুতর কেউ সস্তায় বিক্রি করবে জানলেই কিনে ফেলি৷ পরে অবশ্য চড়া মূল্য দিতে হয় ৷ সস্তার কথা শুনলেই আমাদের বুদ্ধিলোপ পেয়ে যায়৷ ঠিকমত কবুতরকে পর্যবেক্ষণও করি না ৷ কবুতর নিয়ে আসার পর সম্যসা দেখা যায় ৷ সস্তায় পাগল না হয়ে দাম দিয়ে হলেও ভাল কবুতর কিনুন ৷

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও এদের কার্যকারিতা

কবুতরের বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও এদের কার্যকারিতা

কবুতরের বিভিন্ন ভিটামিন ও এদের কার্যকারিতা নিচে আলোচনা করা হলো- => ভিটামিন-এ এর ঘাটতি : …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *