বুধবার , আগস্ট ৪ ২০২১
Home / কবুতরের রোগ ও চিকিৎসা / করাইজা অথবা আউল’স হেড (Infectious Coryza)
করাইজা অথবা আউল'স হেড (Infectious Coryza)
করাইজা অথবা আউল'স হেড (Infectious Coryza)

করাইজা অথবা আউল’স হেড (Infectious Coryza)

#করাইজা অথবা আউল’স হেড (Infectious Coryza)
#কবুতর এর চোখ ঊঠা
চোখ এ পানি বা সাদা ময়লা।

✅কারণ:হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা(Haemophilus paragallinarum)।

যেসব কারণে এই রোগ বেশি হয়:
১)কবুতরের ঘর বা খাঁচা ময়লা থাকলে।
২)স্যাঁতসেঁতে জায়গায় কবুতর রাখলে।
৩)কবুতরের ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস না থাকলে।
৪)বাজার থেকে কবুতর সরাসরি নিজের কবুতর এর সাথে রাখলে।

৫)আপনি আক্রান্ত কবুতর দেখে বা ধরে বা হাট থেকে এসে সরাসরি কবুতরের কাছে গেলে।
৬)কবুতরের হাল্কা ঠাণ্ডা লাগ্লে,তার পর চিকিৎসা না করলে তা থেকেও ছড়ায়।

✅রোগের লক্ষণ:
সর্দি,চোখের পাতা ফুলে প্যাঁচার মাথার মতো দেখায়। চোখ দিয়ে (Muco-purulent)পদার্থ বের হয়।এই রোগে আক্রান্ত কবুতরের নাসারন্ধ্র ও সাইনাসে(Sinus)প্রদাহ হয়। প্রদাহের ফলে নাক থেকে প্রথমে পানির ন্যায় তরল পদার্থ নিঃসৃত হয় পরে শ্লে­ষ্মা নিঃসৃত হয়। সাইনাস প্রদাহের ফলে মুখমন্ডল ফুলে যায়। অক্ষি ঝিল্লি­তে প্রদাহ হয়,চোখ দিয়ে পানি পড়ে, চোখের পাতা আটকে যায়।

চোখ এ পানি বা সাদা ময়লা দেখা দেয়।
শ্বাসতন্ত্র আক্রান্ত হওয়ার পর শ্বাসকষ্ট ও ঘড়ঘড় শব্দ হয়। গলকম্বল বিবর্ণ হয়ে যায় ও পানি জমে। ডিমপাড়া কবুতরের ডিমপাড়ায় শতকরা ১০ থেকে ৪০ ভাগ কমতে পারে। এই রোগে বড় কবুতরের চেয়ে ছোট কবুতর বেশি আক্রান্ত হয়।

এই রোগ কবুতরের অন্যান্য রোগ যেমন পিজিয়ন পক্স, মাইকোপ্লাজমা গ্যালেনেরাম, ইনফেকশাস ব্রংকাইটিস, ইনফেকশাস ল্যারিঙ্গোট্রাকিয়াটিসের সঙ্গে মিশে জটিলতা সৃষ্টির ফলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। এই রোগে আক্রান্তের হার বেশি কিন্তু মৃত্যুর হার কম।

✅করনীয়:
১)অসুস্থ কবুতরটি আলাদা রাখুন।
২) সুতি কাপড় অথবা টিস্যু দিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন।

ইনফেকশাস করাইজা রোগটি নিম্নলিখিত ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করা যায়।

✅চিকিৎসা:
(১)নিচের যে কোন একটি ট্যাবলেট কেচি দিয়ে সমান 4 টুকরা করে(বড় কবুতরের জন্য চার টুকরা,ছোট কবুতরের জন্য সমান 5 টুকরা করে নিবেন) তিনবেলা এক টুকরা করে খাইয়ে দিবেন হা করে।
5-7 দিন।
1.Cefotil Plus 250 MG Tablet
Or,
2.Cerox CV 250MG

(২)নিচের যেকোন একটি চোখের ড্রপ ব্যবহার করুন।
1.Dexonex-C 0.1%+0.5
E/E Drops.
Or,
2.Denicol ED 0.1%0.5%
E/ E Drops.
এক ফোটা করে দিনে 3-4 বার চোখে দিন।

(৩)Amcivit Syrup
হাফ লিটার বিশুদ্ধ পানির সাথে 1 চামচ মিশিয়ে কবুতরকে সাধারণ পানির মতো পরিবেশন করবেন অবশিষ্ট দ্রবণ চার ঘণ্টার পূর্বে ফেলে দিবেন।
তিন বেলা।
একটানা 10 দিন।
🔴সিরাপ বোতলের মুখ খোলার পর 25 থেকে 30 দিনের মধ্যে ব্যবহার করবেন
৬) ড্রপ ৬ দিনের বেশী ব্যবহার করবেন না।

🔺ঔষধ পাওয়া যাবে মানুষের ফার্মেসী।

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের পায়খানা/মল দেখে রোগ নির্ণয় করবেন যেভাবে

কবুতরের পায়খানা/মল দেখে রোগ নির্ণয় করবেন যেভাবে

কবুতরের শারীরিক অবস্থা দেখে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব না ৷ কবুতরের রোগ নির্ণয় করতে অবশ্যই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *