বুধবার , আগস্ট ৪ ২০২১
Home / কবুতরের প্রাকৃতিক ঔষধ / কবুতরের জন্য গ্রিটের প্রয়োজনীতা এবং গ্রিট তৈরীর পদ্ধতি
কবুতরের জন্য গ্রিটের প্রয়োজনীতা এবং গ্রিট তৈরীর পদ্ধতি।
কবুতরের জন্য গ্রিটের প্রয়োজনীতা এবং গ্রিট তৈরীর পদ্ধতি।

কবুতরের জন্য গ্রিটের প্রয়োজনীতা এবং গ্রিট তৈরীর পদ্ধতি

গ্রিট কবুতরের ভাল স্বাস্থ্য এবং ডিম বাচ্চা করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কবুতরের গ্রিট কিগ্রিট আপনার কবুতরের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন আপনি কবুতরকে গ্রিট দিবেন সেসব বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি ঘরে বসে গ্রিট তৈরীর পদ্ধতি  এখানে আলোচনা করা হবে।

গ্রিট কি? অথবা  গ্রিট কাকে বলে ?

ইটের গুঁড়ো, কাঠ কয়লা সমুদ্রের ফেনা, পোড়ামাটি ডিমের খোসা, মোটা বালি ইত্যাদি উপাদান মিশিয়ে কবুতরের জন্য একপ্রকার মিশ্রণ তৈরি করা হয়। একেই গ্রিট বলে।

এবার আলোচনা করা যাক আপনি কেন আপনার কবুতরকে গ্রিট দিবেন এই বিষয়ে-

কবুতরের খাদ্য হজম এবং কবুতর যেহেতু গিলে খাবার খায় সেই খাবার ভাঙার জন্য গ্রিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  দানাদার খাবারের খোসা কবুতরের খাবার হজমে বাধা দেয়। গ্রিট বাধা দূর করে হজমে সাহায্য করে।

কবুতরের শরীরে গ্রিট এর অভাব হলে যেসব সমস্যা হতে পারে সেগুলো হলো-

১। অনেকেই মনে করে গ্রিট কবুতরের ডিম উৎপাদনের ভূমিকা রাখে। এই ধারণাটি সঠিক নয়। তবে গ্রিট কবুতরের বহুমুখী উপকার সাধন করে থাকে। গ্রিট বাচ্চার বেড়ে ওঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন  করে। বাচ্চার দৈহিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

২। গ্রিট এর অভাবের কারণে অনেক সময় বাচ্চার পা বাঁকা এবং মাথায় বা গায়ের লোম কম হতে পারে।

৩। বাচ্চা ঠিকভাবে অনেক সময়ে বেড়ে ওঠে না।

৪। বড় কবুতরের ক্ষেত্রে গ্রিট এর অভাব হলে হজম ঠিকমতো হয়না এবং কবুতরটি রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৫। গ্রিটের অভাবে অনেক সময় পায়খানার সাথে গোটা দানা বেরিয়ে আসে এবং অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হতে পারে।

এবার গ্রিট তৈরীর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যাক-

এখানে ২০কেজি গ্রিট তৈরীর উপকরণ পরিমাপ আলোচনা করা হলো। আপনারা আপনাদের নিজেদের পরিমাণমতো এই অনুপাতে গ্রিট তৈরি করবেন। এখানে একটি কথা বলে রাখি গ্রিট তৈরি করার এই উপকরণ গুলো কম বেশি হলে তাতে কোন সমস্যা নেই।

ইটের গুড়া ১৫ কেজি।

সামুদ্রিক ঝিনুকের গুড়া ৩ কেজি। সামুদ্রিক ঝিনুক না পাওয়া গেলে ঝিনুক সেলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।

ডিমের খোসা ১০ থেকে ১৫ টি।

পোড়ামাটি ২ কেজি।

আয়োডিন লবন ৫০০ গ্রাম।

সোডালাইম ৫০০ গ্রাম।

বিট লবণ ২৫০ গ্রাম।

কাঠ কয়লা ২০০ গ্রাম।

মোটা বালি ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি পরিমাণ।

প্রথমে ইটের গুড়া চালনি দিয়ে চেলে নিতে হবে। ইটের গুড়া ভাঙ্গার পর তার পরিমাপ হবে একটা কম কিংবা চালের সমপরিমাণ। অর্থাৎ  চাল বা গমের আকারে ছোট ছোট গুড়ো করে নিতে হবে। ইটের গুড়া ব্যবহার করার আগে সেগুলো লবণ বা পটাশ পানিতে ভালো করে ধুয়ে তারপর রোদে শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।

একইভাবে ঝিনুক শামুকের গুরা কাঠ-কয়লা সমুদ্রের ফেনা ডিমের খোসা গুরু করে নিয়ে ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। উপাদানগুলো জীবাণুমুক্ত করা খুবই জরুরী। কেননা এসব উপাদানে সালমনেলা জীবাণু থাকে। তাই গ্রিট ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত না করে নিলে কবুতরকে গ্রিট প্রদানের সমস্ত উদ্দেশ্যেই বিফলে যাবে।

গ্রিট তৈরীর যে উপাদান গুলোর কথা এখানে বলা হয়েছে সেগুলো সবগুলোই যে লাগবে বিষয়টি এমন নয়। আপনি হাতের কাছে যেগুলো পাবেন সেগুলো দিয়েই গ্রিট তৈরি করে নিতে পারেন। তবে ভালো ভাবে জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের গ্রিট কিনতে পাওয়া যায়। তবে গ্রিট নিজে তৈরি করে নেয়াটাই ভালো। বর্তমানে অনলাইনে কিছু ভালো মানের গ্রিট কিনতে পাওয়া  যায়। সেগুলোর মান যদি ভাল থাকে আপনি সেই গ্রিট ব্যবহার করতে পারেন। গ্রিট কেনার আগে অবশ্যই  গ্রিট এ থাকা উপাদানগুলো যাচাই করে নিবেন।

সতর্কতাঃ

একবার গ্রিট বানিয়ে আপনি দুই থেকে তিন মাস ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই মাসে দুইবার গ্রিট গুলো রোদে শুকিয়ে নেবেন। কারণ গ্রিট এ যে উপাদানগুলো থাকে তাতে ফাঙ্গাস পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

অতিরিক্ত গ্রিট দেয়ার ফলে ডিম এর খোসা শক্ত হয়ে যায়। ফলে ডিম ফাটিয়ে বাচ্চা বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই গ্রিট প্রয়োগের পরিমান অবশ্যই পরিমান মত হতে হবে।

কবুতরকে গ্রিট প্রয়োগের পরিমাণ-

কবুতরকে সপ্তাহে ২ বার  গ্রিট প্রদান করতে হবে। কবুতরের সামনে সবসময় গ্রিট দিয়ে রাখা উচিত নয়। আবার খুব বেশি পরিমাণে গ্রিট প্রদান করা উচিত নয়। যেসব কবুতরের বাচ্চা রয়েছে সেসব কবুতরকে প্রত্যেকদিন অল্প পরিমাণে গ্রিট প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়া অন্যান্য কবুতরকে এক মুঠ পরিমাণ  গ্রিট প্রদান করতে হবে। কবুতরকে আলাদা বাটিতে গ্রিট প্রদান করতে হবে।

সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং নিজের খেয়াল রাখবেন। কবুতরের গ্রিট বিষয়ে আরো কোন কিছু জানার থাকলে বা কোন বিষয় না বুঝতে পারলে কমেন্ট করে জানাবেন।

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

কবুতরের মুখে ঘা/ক্যাঙ্কার রোগের প্রাকৃতিক চিকিৎসা

আসসালামুয়ালাইকুম কবুতর প্রেমী ভাই, বোন এবং বন্ধুগণ। আশা করছি সকলেই মহান আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *