রবিবার , নভেম্বর ২৮ ২০২১
Home / কবুতরের রোগ ও চিকিৎসা / ডিমের ভেতরে বাচ্চা নষ্ট হবার কারন এবং প্রতিকার
ডিমের ভেতরে বাচ্চা নষ্ট হবার কারন এবং প্রতিকার
ডিমের ভেতরে বাচ্চা নষ্ট হবার কারন এবং প্রতিকার

ডিমের ভেতরে বাচ্চা নষ্ট হবার কারন এবং প্রতিকার

আমাদের অনেকেরই এই সমস্যা হয়ে থাকে কবুতরের ডিম জমে না এবং ডিম জমলেও ডিমের ভিতর বাচ্চা মারা যায়। আজকে আমি বলব কি কি কারণে ডিমের ভিতর বাচ্চা মারা যায় এবং এর থেকে প্রতিকার পেতে আমাদের করণীয়। চলুন শুরু করা যাক-

প্রথমেই বলে রাখি কবুতরের ডিম জমা আসলে কি?

কবুতর ডিম পারার ৩ থেকে ৫ দিন পরে ডিমটি যদি আলোর সামনে ধরা হয় তবে দেখতে পাবেন ডিমের ভিতর লাল লাল শিরা দেখা যাচ্ছে। এর থেকে আপনাকে বুঝতে হবে এটি একটি উর্বর ডিম এবং এই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে। এটাকে বলে কবুতরের ডিম  জমা। যদি কবুতরের ডিম ৫ দিন পরেও লাল লাল শিরা না দেখা যায় তবে বুঝতে হবে এই ডিমটি আর ফুটবে না অর্থাৎ জমেনি।

কবুতরের ডিমের ভেতরে বাচ্চা মারা যাবার প্রধান কারণগুলো হলো

অতিরিক্ত গরম কবুতরের  ডিম নষ্ট হবার অন্যতম কারন। আপনারা  হয়তোবা একটু খেয়াল করলেই দেখবেন কবুতরের ডিম শীতের তুলনায় গরমের দিনে নষ্ট হয় বেশি।

অনেকেই মনে করে থাকেন কবুতর শীতের দিনে হয়তো ভালো ডিম বাচ্চা করে না। কিন্তু আমার মতে কবুতরের বাচ্চা উৎপাদনের সবথেকে ভাল সময় হচ্ছে শীত কাল। আপনার কবুতরের ঘর  বা  লফট এ যদি অতিরিক্ত গরম থাকে তাহলে কবুতরের ডিম জমলেও তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তাই এক্ষেত্রে আপনাদের করনীয় কবুতরের ঘর থেকে গরম দূর করার ব্যবস্থা করা। কবুতরের ঘর টি এমন জায়গায় বানাতে হবে যেখানে প্রচুর আলো বাতাসের ব্যবস্থা  আছে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে কবুতরের ঘরে বা লফট এ ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে।কবুতরের ঘরে কিভাবে ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হয় সেটা আপনারা না জানলে কমেন্ট করবেন, আমি বলে দেব।

কবুতর ডিম পারার পরে অনেক সময় ডিম জমেছে কিনা তা দেখতে গিয়ে ডিমের ভিতরের শিরাগুলো ছিড়ে অনেক সময় ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ডিম চেক করার সময় অনেক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

কবুতরের ডিম নষ্ট হওয়ার একটি অন্যতম কারণ হলো ভিটামিন এবং ক্যালসিয়ামের অভাব। এক্ষেত্রে আপনাদের ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম এর কোর্স করাতে হবে।

তবে এখানে বলে রাখি অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের কারনেও কবুতরের ডিম  নষ্ট হয়।কারণ তখন কবুতরের ডিমের খোসা শক্ত হয়ে যায় এবং খোসা ভেঙ্গে বাচ্চাটি বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন কোর্সটি সঠিক পরিমাণে করাতে হবে।

ভিটামিন কে এর অভাবে কবুতরের  ডিমের ভেতরে বাচ্চা নষ্ট হয়। এজন্য আপনারা রেনা কে  ওষুধ টি ব্যবহার করতে পারেন।  হাফ লিটার পানিতে গ্রাম পরিমাণ।

ভিটামিন বি এর অভাবে ডিমের ভিতর বাচ্চা নষ্ট হয়। এজন্য আপনারা স্কয়ার এর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ওষুধ টি ব্যবহার করতে পারেন। হাফ লিটার পানিতে 1 মিলি পরিমাণ।

কবুতর যদি কৃমিতে আক্রান্ত হয় তবে ডিমের ভিতর বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাদের অবশ্যই কবুতরকে কৃমির কোর্স করাতে হবে দুই থেকে তিন মাস পর পর।

অনেক সময় কবুতর সালমোনেলা তে আক্রান্ত হয়। কিন্তু খামারি হয়তো তা বুঝতে পারেনা। কবুতর যদি দীর্ঘদিন সালমোনেলা আক্রান্ত থাকে তবে ডিমের ভেতরে বাচ্চা নষ্ট হয়ে  যায়। এক্ষেত্রে আপনাদের সালমোনেলার মাসিক কোর্স করাতে হবে।

এসবের বাইরে ও কবুতরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কবুতরের খাবার। কবুতর যদি ঠিকমতো সুষম খাদ্য না পায় তবে ডিমের ভেতরে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কবুতরকে অবশ্যই শর্করা আমিষ এবং তেল জাতীয় খাবার একসাথে মিশ্রিত করে ভালো মানের মিক্স খাবার দিতে হবে যাতে কবুতরের শরীরে সব ধরনের ভিটামিনের অভাব পূরণ  হয়।

এর বাইরে ও কবুতরকে অবশ্যই লবণ এবং ভালো মানের গ্রিট দিতে হবে। কবুতরের জন্য লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সপ্তাহে দুই দিন খাবারের সাথে মিশ্রিত করে অথবা গ্রিট এর সাথে মিশিয়েও কবুতরকে লবণ দিতে পারেন।

অনেক সময় দেখা যায় কবুতরটি হয়তো ভালোই ডিম বাচ্চা করছে কিন্তু হঠাৎ করে কবুতরের ডিম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য অবশ্যই আপনাকে কবুতরকে রেস্ট দিতে হবে।অনেকদিন বাচ্চা উৎপাদনের ফলে কবুতরের শরীরে অনেক চাপ পড়ে, যার কারণে কবুতরের ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এবারে আসা যাক এর থেকে প্রতিকার পেতে আমাদের করণীয় সম্পর্কে –

১। নিয়মিত মাসিক কোর্স সহ কৃমির কোর্স এবং সালমোনেলা কোর্স করাতে হবে। এখানে আমি কয়েকটি ওষুধের নাম বলছি যা আপনার মাসিক কোর্সের সাথে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 ভিটামিন ad3e,   সেল,  ক্যালপ্লেক্স,  রেনা কেভিটামিন বি কমপ্লেক্স।

২। ওষুধগুলো ব্যবহারের মাত্রা হবে হাফ লিটার পানিতে 1 মিলি/ গ্রাম পরিমাণ।

৩। কবুতরের ঘর থেকে গরম দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪।  নিয়মিত কবুতরকে লবণ এবং গ্রিট দিতে হবে।

 ৫। শর্করা আমিষ এবং চর্বিজাতীয় খাবারের মিশ্রণ কবুতরকে দিতে হবে যাতে কবুতরের শরীরের সব ধরনের ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়।

৬। দুই থেকে তিনবার বাচ্চা নেয়ার পর কবুতরকে অবশ্যই ১৫ থেকে ২০ দিনের রেস্ট দিতে হবে।

৭। নিয়মিত কবুতরকে গোসল করাতে হবে। কবুতর ঠিকমত গোসল না পেলে কবুতরের ডিমের আদ্রতা ঠিকমতো বজায় থাকে না যার কারনে ডিম জমলেও আদ্রতা নষ্ট হবার কারণে হয়তো ডিমের ভেতরে বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়।

এই বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকলে আপনারা কমেন্ট করে জানাবেন। আমি যতদূর পারি উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং নিজ কবুতরের খেয়াল রাখবেন।

এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের চোখের সমস্যার সমাধান

কবুতরের চোখে পানি আসার কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা

যারা কবুতর পালন করেন তার প্রায় সকলেই কবুতরের চোখের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন।এই রোগটি গরম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *