শুক্রবার , সেপ্টেম্বর ২৪ ২০২১
Home / কবুতরের যত্ন / গরমে কবুতরের যত্নে ১৩ টি করণীয় কাজ
গরমে কবুতরের যত্নে ১৩ টি করণীয় কাজ
গরমে কবুতরের যত্নে ১৩ টি করণীয় কাজ

গরমে কবুতরের যত্নে ১৩ টি করণীয় কাজ

অনেক কবুতর পালক মনে করেন গরমে কবুতরের সমস্যা হয়না, শুধু শীতেই হয়। যা ভুল ধারনা। আসুন জেনে নেই, গরমে কবুতরকে ভাল রাখতে আমাদের কবুতর পালকদের কী কী করতে হবে  বা কি করা যায়
১) কবুতরের বাসস্থানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। কবুতরের বাসস্থান খোলা জায়গায় হলে তো কোন সম্যসা নাই। তবে ঘরে পাললে প্রয়োজনে ফ্যানের ব্যবস্থা বা অ্যাডজাস্টার দিতে হবে বা ভেন্টিলেটর থাকতে হবে।
বেশি গরম হলে এয়ার বাইপাস ফ্যান লাগাতে হবে, যেন গরম বাতাস বের হয়ে যেতে পারে। খুব বেশি গরম পরলে বড় কবুতরও হিট স্ট্রোক করতে পারে। হিট স্ট্রোক রোধে betain vet পাউডার ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে  ১ দিন পর খাওয়ানো যেতে পারে।
২) কবুতরের ঘর এর উপর ছাদ হলে গরমে ২/৩ বার পানি ঢেলে দিন। টিনের চাল হলে ছালার চট / কাপর দিয়ে ঢেকে তা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিবেন ২/৩ বার।
৩) ছেড়ে পালা কবুতর তো নিজে থেকেই ছায়া খুজে নেবে / একটি জায়গা ছায়া যুক্ত বানিয়ে দিন। আর কবুতরের গায়ে যেন মাত্রাতিক্ত  রোদ না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বারান্দায় কবুতর পাললে এবং বারান্দায় রোদ বেশি আসলে বারান্দা কিছুটা ঢেকে রাখুন। খোপের ভিতরে বেশিক্ষণ রোদ থাকলে ডিমে তা দেয়া কবুতর এবং খোপে থাকা বাচ্চা কবুতর পানিশূন্যতায় ভুগবে। ডিম নষ্ট হতে পারে। বাচ্চা মারাও যেতে পারে।
৪) গরমের সময় কবুতরকে তেলবীজ (তিসী , সরিষা, সূর্যমুখীর বীজ, কুসুম ফুলের বীজ) না দেওয়া। অনেকেই বাজারের মীকচাড় খাবার খাওয়াই যাতে তেল বীজ ভরা থাকে। সময় বুঝে আইটেম খাওয়াতে হবে। এতে হিট স্ট্রোকে মারা যেতে পারে।
৫) কবুতরের পানিশূন্যতা পূরনে ও কবুতরের শরীর ঠান্ডা রাখতে ইলেক্ট্রোমিন স্যালাইন (১ লিটার পানিতে ২  গ্রাম ) মিশিয়ে খাওয়ান ১/২ দিন পর পর। গ্লুকোজ (১ লিটার পানিতে ২ চা চামচ) দৈনিক বা ১ দিন পর পর। অ্যালোভেরা (১ লিটার পানিতে ২ চা চামচ ) দৈনিক বা ১ দিন পর পর
গরমে কবুতরের পাতলা পায়খানা হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। গরমের সময় এন্টিবায়োটিক কম দেওয়া ,যা কবুতরের নরমাল  সিস্টেমে বাধা প্রদান করে। কবুতর পাতলা পায়খানা করলে। হামদর্দের পেচিস বা মানুষের  amodis / flazyl ৩/৪ ফোটা  করে প্রয়োগ করতে পারেন, পেচিস অর্ধেক করে দিনে ৩ বার, ১টা করেও দিতে পারেন ৷ সাথে অবশ্যই স্যালাইন দিতে হবে।
গরমে ঔষুধ নষ্ট হয় তাড়াতাডি৷ ঔষুধ ভাল রাখতে ঔষুধ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হবে, ফ্রিজেও নরমাল এ রাখতে পারেন।
পানির সাথে সাথে তাল মিশ্রি দিতে পারেন।
৬) পানির পাত্রে সব সময় পরিষ্কার পানি রাখতে হবে। কবুতরকে ঠান্ডা পানি দিতে হবে। তবে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দেয়া যাবে না। নরমাল ঠাণ্ডা পানি। সারাক্ষণ পানি দিয়া রাখার বন্দোবস্ত করতে হবে যাতে যখনি তার তেষ্টা লাগবে সে যেন তা খেতে পারে।
৭) প্রতি সপ্তাহেই গোসল করানোর ব্যবস্থা করুন। অন্তত  ৭ দিনে ২ বার। বেশি গরম পরলে দৈনিক। আর সম্ভব না হলে সপ্তাহে ২ দিন অবসশই।
০৮) এই গরমে বাচ্চা কবুতর বা বড় কবুতর বাহিরে  বিকালে ছাড়া ভালো যখন রোদ থাকে না বা কম থাকে। বিশেষ করে সারাদিন ছেরে রাখলে কবুতর পানি শূন্যতায় মারা বা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
০৯) তিন মাস পর পর নিয়মানুযায়ী কৃমিনাশক খাওয়ান ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বা বৃষ্টি হলে। কবুতরের বাসস্থান পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত রাখুন। গরমের সময় বেশি রোগ দেখা না গেলেও গরমজনিত সম্যসা দেখা যায়, সেগুলোর চিকিৎসার ঔষুধ সংগ্রহে রাখুন।
১০) প্রচণ্ড বৃষ্টিতে খোপে বা ধাপটি তে পরদা দিন, বেশি ভিজলে ঠাণ্ডা লেগে কাশি, হাপানি, চোখ উঠা, কান পাকা বিভিন্ন রোগ দেখা যায়, বিশেষ করে নতুন বেবি খুব ক্ষতি গ্রস্থ হয়।
১১) সাল্মোণেল্লা প্রতিরোধে প্রতি মাসে নিচের হেমিকো পি এইচ প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি মিশিয়ে ৫ দিন  খাওয়ান।
১২) normal ঠাণ্ডা লাগ্লে respiron, ১ লিটারে ২ মিলি। বেশি লাগলে eroct ও কাজ করে ১ লিটারে ১ বা ২ গ্রাম। হাপানি হয়ে গেলে বা হা করে শ্বাস নিলে cotravet + mucospel ১ লিটারে ২ গ্রাম মিক্স করে খাওয়াবেন।
১৩) কবুতরের জায়গা বারিয়ে দিন যেমন যেইখানে ৩০ পিচ রাখা যায় অইখানে ২০ পিচ রাখুন ।ভাল থাকবে।
👉গরমে ঔষুধ নষ্ট হয় তাড়াতাডি। ঔষুধ ভাল রাখতে ঔষুধ ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হবে, লিকুইড হলে নরমাল ফ্রিজেও রাখতে পারেন।
বিঃদ্রঃ আমার স্বল্প জানা থেকে বলা, ভাল জানে এমন কারো পরামর্শ নিন / তাদের সাথে আলাপ করে নিন।
এই পোস্ট আপনাদের উপকারে আসলে একটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ...

Check Also

কবুতরের গ্রীষ্মকালীন খাবারের ছক

কবুতরের গ্রীষ্মকালীন খাবারের ছক

কবুতর পালন করতে গিয়ে আমরা অনেক কাজ করে থাকি আসল কাজ বাদ রেখেই। এই সেক্টরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *